× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘খিদায় কি আর শীত মানে বাহে’

গাইবান্ধা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:০০ পিএম

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:০৫ পিএম

শনিবার কাজের অপেক্ষায় থাকা গাইবান্ধার খেটে খাওয়া মানুষ। প্রবা ফটো

শনিবার কাজের অপেক্ষায় থাকা গাইবান্ধার খেটে খাওয়া মানুষ। প্রবা ফটো

তীব্র কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে বিপর্যস্ত গাইবান্ধার জনজীবন। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ঘর থেকে বের হতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। 

গাইবান্ধা জেলা শহরের বড় মসজিদের সামনে হবিবর, তারা মিয়া, নবিজল হক, মজিবর মিয়া ও মহির উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন রাস্তার পাশে। এরা সবাই ভোরে হাতে কাঁচি আর দা কুড়াল নিয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন কাজের সন্ধানে। বিভিন্ন জনের বাড়ি গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামে। তারা খুঁটি লাগানো, চাটাই বানানো, বেড়া লাগানো, বাগান পরিষ্কার করাসহ নানা কাজ করেন।  

ফলিয়া গ্রাম থেকে মহির মিয়া খালি পেটে পায়ে হেঁটে দা নিয়ে কাজের সন্ধানে আসেন বড় মসজিদের সামনে। যদি কাজ মেলে সেই আশায়। 

মহির মিয়ার ঘরে তিন সন্তান আর স্ত্রী হাজেরা বেগম। একজনের রোজগারে পাঁচ জনের পেট চলে। নিজের জমিজমা নেই বললেই চলে। গরমের দিনে কষ্ট না হলেও শীত এলে তাদের কষ্ট দেখার মতো কেউ নেই। মহির মিয়া দুই হাতে কাজ করে সংসার চালান, যেদিন হাত চলে সেদিন ভাতের যোগাড় হয়। আর কোনো দিন ধারদেনা করে পেটে ভাত জোটে।

আজ শনিবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টা পর্যন্ত তারা পাঁচজন দাঁড়িয়েছিলেন কাজ পাওয়ার অপেক্ষায়। কিন্তু কাজ না পাওয়ায় তাকে বাড়ি যেতে হবে- বললেন মহির। 

তিনি বলেন, ‘গরিবের চিন্তুা কেটা করে? ঠান্ডায় কাপতে কাঁপতে একান লুঙ্গি আর পুরানা ছেড়া জ্যাকেট পড়ে আশায় দাঁড়িয়েছিলাম। কেউ কাজে নিল না। প্যাটট আগুন জলবার নাগছে খিদায়। খিদা তো আর শীত মানে না। একদিকে শীত অন্যদিকে পেটের ক্ষুধা কাহিল করে দিয়েছে দিন খাটা কামলাদের।’

তারা মিয়া বলেন, ‘কী আর করি। স্ত্রী ময়নার ওপর ভরসা। সে পাশের রউফ মিয়ার বাড়িতে কাজ করে। তাও একটা ভরসা আছে।’ 

তিনি বলেন, ‘খিদায় কি আর শীত মানে বাহে। তাই কাঁপতে কাঁপতে কাজের আশায় ছুটে এসেছি। কিন্তু আজ আর কাজ পেলাম না।’

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. অলিউর রহমান বলেন, ‘শীতার্ত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত শুধু মাত্র ৪২ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। তবে খাদ্য সংকট ও মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য কোনো কর্মসূচি হাতে নেই।’


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা