বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:২১ পিএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৪০ পিএম
কালমেঘা দাখিল মাদ্রাসা। ছবি : প্রবা
বরগুনার পাথরঘাটায় এমপিওভুক্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কালমেঘা দাখিল মাদ্রাসা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সুপারের বিরুদ্ধে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার নাম বাদ দিয়ে এর আড়ালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ওই মাদ্রাসাতেই কিন্ডার গার্টেন মাদ্রাসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে এ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সুপার জালাল আহমেদের দাবি, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। একাডেমি সুপারভাইজারের সঙ্গে আলোচনা করেই কিন্ডার গার্টেন খোলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) কালমেঘা ইউনিয়নে অবস্থিত ওই মাদ্রাসার সামনে যেতেই নজরে আসে একটি সাইনবোর্ড। প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচয় হিসেবে এতে লেখা হয়েছে ’কালমেঘা কিন্ডার গার্টেন মাদ্রাসা’।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মাদ্রাসা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. ফারুকের অভিযোগ, এমপিওভুক্ত কালমেঘা দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শাখাটি বন্ধ করে কালমেঘা কিন্ডার গার্টেন নামে শাখা খুলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ইবতেদায়ির শিক্ষকদের দিয়ে কিন্ডার গার্টেনের পাঠদান করাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান সুপার। শুধু তাই নয়, ইবতেদায়ি শাখার শিক্ষার্থীদের ক্লাসেই কিন্ডার গার্ডেন শাখার শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন ইবতেদায়ি শিক্ষকরা।
তিনি আরও বলেন, সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও রয়েছে। এ ছাড়াও অন্য একটি মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে উভয় শাখার শিক্ষকরা বলছেন, মাদ্রাসার সুপারই তাদের এখানে ক্লাস নিতে বলেছেন।
রাকিবুল ইসলাম নামে একজন অভিভাবক বলেন, ’একই মাদ্রাসায় আলাদা দুটি শাখা খুলে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সুপার। এ নিয়ে কথা বলতে গেলেও তারা কেউ কথা বলতে পারছেন না। তাদের দাবি, ওই সুপার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলছে না।’
প্রতিষ্ঠানটির ইবতেদায়ি শাখার শিক্ষক আ. কাদের মামুন বলেন, ’ইবতেদায়ি শাখা থাকার পরও সুপার নিজেই কিন্ডার গার্টেন করেছেন। এতে একদিকে ইবতেদায়ির শিক্ষার্থীরা যেমন প্রাপ্য শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কিন্ডার গার্ডেন শিক্ষার্থীদের বেশি খেয়াল নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ’সুপার স্যার কিন্ডার গার্টেনে আমাদের ক্লাস নিতে বলেছেন। আমাদের ইবতেদায়িতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংকট, এখন তিনজন শিক্ষক রয়েছি। আর শিক্ষার্থীও কমে মাত্র সাতজনে এসেছে।’
কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ’সুপার স্যার আমাদের কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার্থীদের ৩০০ টাকা ভর্তি এবং ৩০০ টাকা মাসিক বেতন ধার্য করে দিয়েছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের সাড়া পেতে শুরু করেছি।’
এ বিষয়ে মাদ্রাসা সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ’আমি ম্যানেজিং কমিটি ও অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারের সঙ্গে আলাপ করেই কিন্ডার গার্টেন মাদ্রাসা চালাচ্ছি।’
মাদ্রাসার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এটা করা হয়েছে।
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি এম মতিউর রহমান বলেন, ’এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে এমন কিন্ডার গার্টেন করার নিয়ম আছে কি না আমার জানা নেই।’
পাথরঘাটা উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান বলেন, ’কালমেঘা দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শাখার সঙ্গে কিন্ডার গার্টেন চালানোর বিষয়টি আমরা জানতাম না এবং আমরা কোনো অনুমতি দিইনি। আমাদের না জানিয়েই কিন্ডার গার্টেন পরিচালনা করে আসছে তারা।’