গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১৩ পিএম
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:০৯ পিএম
গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল। ছবি : প্রবা
নানা সমস্যায় জর্জরিত গাইবান্ধার জেলা হাসপাতাল। যন্ত্রপাতি ও জনবলসহ নানা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
হাসপাতালটিতে সুচিকিৎসা, ওষুধ সরবরাহ ও খাদ্যের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ করে আসছে স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটের কারণে সামান্য কোনো রোগ নিয়ে গেলেও রোগীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
হাসপাতালে নেই কোন আইসিইউ ইউনিট। এতে বিশেষ করে বিপাকে পড়ে হার্টের রোগীরা। আইসিইউ না পেয়ে রংপুর মেডিক্যালে যাওয়ার সময় হয়তো পথিমধ্যেই নিভে যায় জীবন প্রদীপ।
দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে দুই ভেন্টিলেটর মেশিন থাকলেও সেগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে চালু করা হচ্ছে না। ফলে একদিকে মূল্যবান মেশিনগুলো যেমন নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীরা সেবা পাচ্ছে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, হাসপাতালটি ২০০ বেড ঘোষণা দিলেও বাস্তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়া হয়নি। ৪২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ১৮ জন দিয়ে চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মেডিসিন, ইএনটি, চক্ষু, কার্ডিওলোজি, চর্ম ও যৌন রোগ, সার্জারিসহ বিভিন্ন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। দুইটি এক্সরে মেশিন থাকলেও একটি বিকল। অপরটিতে রেডিওলজিস্টের অভাবে কাজ হয় না। তাছাড়া যে এক্সরে মেশিনটি সচল রয়েছে সেটিও এনালগ সিস্টেমের বলে রোগীদের বাইরে থেকে ডিজিটাল এক্সরে প্লেট করিয়ে আনতে হয়। ইসিজি মেশিন না থাকায় গাইবান্ধা পৌরসভা একটি মেশিন দিয়েছে। কিন্তু সেটি চালানোর জন্যও স্থায়ী জনবল নেই।
তিনি বলেন, হাসপাতালে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সনোলজিস্ট ডাক্তার না থাকায় সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কোনোরকমে মেশিনটি চালু রাখা হয়। ফলে বিশেষ করে নারী রোগীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়।
ক্লিনারের পদ ১৫ জনের থাকলেও কর্মরত রয়েছে মাত্র চার জন। এছাড়া বিভিন্ন পদে ১৮৭ জন কর্মচারী থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছে মাত্র ৬৫ জন। ফলে প্রশাসনিক ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজকর্ম সঠিকভাবে হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, পুরো হাসপাতালে রোগীদের ওয়ার্ডজুড়ে মাত্র চার থেকে পাঁচটি বাল্ব জালানো হয়। ফলে অন্ধকারে ডুবে থাকে অধিকাংশ ওয়ার্ড। খাবারের মান নিয়ে অভিযোগও দীর্ঘদিনের। রোগীদের দেওয়া হয় নিম্নমানের পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ, ভাত, তরকারি। দুধ যেন সাদা পানি। ডিম আর কলার অবস্থা আরও খারাপ। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হয়।
অপরিচ্ছন্নতা, ময়লার স্তূপ জমে থাকার পাশাপাশি পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বেহাল দশা। করোনাকালে হাত ধোয়ার জন্য পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেটি এখন নোংরা পানির হাউসে পরিণত হয়েছে। পানি না পেয়ে রোগীদের স্বজনদের সেখানেই কাপড়চোপড় ধুতে দেখা যায়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মেহেদী হাসান বলেন, জনবল সংকটসহ নানা অসুবিধার মধ্যেই চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক তাদের সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।