চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:০৭ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২১:৩৫ পিএম
চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাসে নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। ছবি: প্রবা
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ভবনের মূল ফটক অবরুদ্ধ রেখে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে হাজিরা পদ্ধতি বাতিল, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ী করা, কর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়া এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে তারা আন্দোলনে নামেন।
মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাসে নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এতে প্রায় ২০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী অংশ নেন। এ সময় চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী নগরভবনে তার কার্যালয়ে ছিলেন।
পরে বিক্ষোভের বিষয়ে মেয়রের সাথে আলাপ-আলোচনা করে চসিকের জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব ও লালখান বাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল ঘটনাস্থলে যান। মেয়র তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়েছেন জানালে বিক্ষোভ তুলেন নেন তারা।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী শাহেদ বলেন, ‘অফিসের হাজিরা পদ্ধতি ফিঙ্গারপ্রিন্ট হওয়ার পর থেকে আমরা খুব বেকায়দায় পড়ে গেছি। মাস শেষে আমাদের নির্ধারিত বেতন কেটে রাখা হচ্ছে। আমরা মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ৩০ দিনই কাজ করি। ঈদ ও পূজার সময়েও আমাদের ছুটি নেই। গত ডিসেম্বর মাসে আমি প্রতিদিনই কাজে এসেছি, ফিঙ্গারপ্রিন্টও দিয়েছি। কিন্তু মেশিনে আমার চার দিনের হাজিরা উঠেনি। তাই ১৮শ টাকা কেটে রাখা হয়েছে।’
‘এসব শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়; অনেকের টাকা কেটে রাখা হয়েছে। তাই আমরা বিষয়টি মেয়র স্যারকে জানাতে এসেছি। আমরা হাজিরা পদ্ধতি ফিঙ্গারপ্রিণ্ট বাতিল করে আগের মতো সই করতে চাই।’
এ সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, ‘অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করার নথি আমরা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীপরিষদে পাঠিয়ে দিয়েছি। ডিজিটাল হাজিরা সংক্রান্ত ঝামেলায় যাদের বেতন কাটা হয়েছে বা পাওনা আছে, তাদের এক সপ্তাহের মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধ করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে চসিকের সচিব খালেদ মাহমুদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের স্টাফদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট চালু করা হয়েছে। এই সিস্টেমে হাজিরা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ম্যানুয়ালি হাজিরা দিতে চান। ফিঙ্গারপ্রিন্টে উপস্থিতি নিশ্চিত না করায় অনেকের বেতন কাটা হয়েছে। তাই তারা এটা বাতিল চেয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
‘তবে সবাইকে ফিঙ্গারপ্রিন্টে হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে। যদি ফিঙ্গারপ্রিন্টের মেশিনে কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, আমরা খতিয়ে দেখব। বিষয়টি নিয়ে সিটি মেয়র নির্দেশনা দেবেন।’