বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:১২ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২০:৪৯ পিএম
এসআই শহিদুল ইসলাম। ছবি : প্রবা
বরগুনার বেতাগীতে হাতকড়াসহ আসামি পালানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে বরগুনা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বেতাগী থানার এসআই শহিদুল ইসলামের হাত থেকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে যান হাবিব বিশ্বাস নামের এক আসামি। এর তিন ঘণ্টা পর হাতকড়া ও চাবি উদ্ধার হলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পরে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এসআই শহিদুলকে প্রত্যাহার করা হয়।
বেতাগী থানা পুলিশ জানায়, গত সপ্তাহে স্থানীয় সোনার বাংলা বাজারের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। তদন্ত করে হাবিব বিশ্বাসের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পায় পুলিশ। এরপর সোমবার দুপুরে এসআই শহিদুলসহ পুলিশের একটি টিম হোসনাবাদ এলাকায় হাবিবের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে থানায় নিয়ে আসার পথে হাবিব হাতকড়াসহ দৌড়ে একটি ধান ক্ষেতের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ঘটনার পর আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতকড়া উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অন্যরা যেন বিষয়টি জানতে না পারে সেজন্য এক ধরনের চাপ প্রয়োগ করেন। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় মালেক সর্দার বলেন, ‘হাতকড়াসহ আসামি পালানোর পর এসআই আমার কাছে আসে। আমি যেন আসামি খুঁজে দিই।’
চুরি হওয়া দোকানের মালিক শুভঙ্কর বেপারি বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আমার দোকানে চুরি হয়। রবিবার চোরকে ধরার পর পুলিশের হাত থেকে সে হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়। পরে ফের ধরলেও ছেড়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এসআই হাতকড়া উদ্ধারের ঘটনা সাজায়। এখন আবার আসামি না ধরে ওই এসআইকে প্রত্যাহার দেখিয়ে আমাদের সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে।’
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, আসামি একজন ছিঁচকে চোর। এ ধরনের চোরদের কাছে হাতকড়া বা তালা খোলার মতো চাবি বা যন্ত্রপাতি কিছু না কিছু থাকেই। এমনটাই হয়তো ঘটেছে। কারণ, আসামি পালিয়ে যাওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর ধানক্ষেত থেকে ওই হাতকড়াটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় সম্পৃক্ত এসআই শহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরগুনার পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম তারেক রহমান বলেন, তদন্ত চলছে। কী ঘটেছে তদন্তে সব উঠে আসবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।