পটুয়াখালী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:২৫ পিএম
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর পথে-প্রান্তরে ছড়িয়ে আছে নানা ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোককাহিনী আর পুরাকীর্তি। এমনই একটি পুরাকীর্তি ও মুঘল স্থাপত্যের ঐতিহাসিক নির্দশন শ্রীরামপুর জমিদার বাড়ি। ৩০০ বছরের পুরোনো এ জমিদার বাড়িটি পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে সাত কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। রাজা-বাদশাহ-জমিদারদের প্রজাবৎসলতা, শাসন, শোষণ আর নির্যাতনের ইতিহাস আজ দূর অতীত। কিন্তু মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে তাদের নানান কাহিনী।
বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদকুলী খান ১৭০০ সাল থেকে ১৭২৭ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন। এ সময় শ্রী শিব প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও শ্রী ভব প্রসাদ মুখোপাধ্যায় নামে দুই ভাই নবাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। কথিত আছে, শিব প্রসাদ নবাবের কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তার নাম হয় শিবল খাঁ। নবাব খুশি হয়ে তাকে এক ভাঁটায় যতদূর যাওয়া যায়, ততোদূর সীমানা পর্যন্ত জমি ও মিয়া পদবি প্রদান করেন। পরে শিবল খাঁর পুত্র কালে খাঁ বরিশালের বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫৬টি মৌজায় জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। এসব মৌজার কাজ শ্রীরামপুর জমিদার বাড়ি থেকেই পরিচালিত হতো। প্রতিটি মৌজায় ছিল একটি করে দীঘি ও মসজিদ। যেগুলোর অস্বিত্ব আজও বিদ্যমান।

জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বার কারুকার্য শোভিত। ফটক পেরিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে কয়েকটি প্রাসাদ। এ ছাড়া আছে একটি অন্ধকার কূপ, যা স্থানীয়ভাবে আন্দার কিল্লা নামে পরিচিত। ১৫০ ফুট দৈর্ঘ ও ১৪০ ফুট প্রস্থের এ কূপে রয়েছে ছোট বড় প্রায় ১০০টি কক্ষ। চারদিকে প্রাচীর ঘেরা এ কূপটির বিভিন্ন কক্ষে ফেলে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে। কালের বিবর্তনে কূপটি ভরাট হয়ে গেলেও প্রাচীরের অস্তিত্ব এখনও বিদ্যমান; যা সাক্ষী দিচ্ছে তখনকার শাসকদের নির্মম নির্যাতন ও কঠোর শাসন ব্যবস্থার।
শুধু জমিদার বাড়িই নয় বরং পুরো এলাকায়ই রয়েছে বেশ কিছু মোঘল স্থাপনার নিদর্শন। বাড়ির কাছেই রয়েছে কারুকার্যখচিত একটি মসজিদ, যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এখনও ইবাদত-বন্দেগী করেন। মসজিদের অদূরেই চোখে পড়ে মুঘল স্থাপাত্য রীতিতে বাঁধাই করা কালে খা ও তার স্ত্রী জুলেখার জোড়া করব। জমিদার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথেই রয়েছে গম্বুজ আকৃতির একটি সেতু। যদিও সেখানে এখন কোন নদী বা খালের অস্তিত্ব নেই।
মোঘল শাসন ব্যবস্থা শেষ হয়েছে সেই কবে। কিন্তু কালের সাক্ষী হিসেবে আজও দাঁড়িয়ে আছে শ্রীরামপুরের জমিদার বাড়ি।