শরীফ স্বাধীন, মাগুরা
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩৩ মিনিট আগে
ভবনের নিচতলায় চারটি দোকান ও চারটি বড় চান্দিনা এবং দ্বিতীয় তলায় ১৮টি দোকান থাকলেও সবই তালাবদ্ধ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মাগুরা সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভাবনহাটি বাজারে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে দুই তলাবিশিষ্ট আধুনিক বাজার ভবন। নির্মাণের প্রায় দুই বছর পরও উদ্বোধন ও দোকান বরাদ্দ না হওয়ায় ভবনটি ব্যবহারহীন পড়ে আছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সদর উপজেলা প্রশাসনের কাছে নেই ভবনটির প্রকল্প-সংক্রান্ত কোনো ফাইল বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় (এলজিইডি) জানায়, গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ভবনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে.এম.আর-পি.কে (জেভি) কার্যাদেশ পেলেও পরে কাজটি গ্রহণ করে মাগুরার পরিতোষ এন্টারপ্রাইজ।
সংশোধিত চুক্তিমূল্য ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৪ টাকায় নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল শেষ হয়। পরে একই বছর ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে মাগুরা সদর উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে এলজিইডি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় চারটি দোকান ও চারটি বড় চান্দিনা এবং দ্বিতীয় তলায় ১৮টি দোকান থাকলেও সবই তালাবদ্ধ। সিঁড়ি ও বারান্দায় জমেছে ময়লা-আবর্জনা, ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। সন্ধ্যার পর ভবনটিতে বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এতে একদিকে ভবনের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে ভাবনহাটি বাজার এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র। বাজারের আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে নির্মিত ভবনটি প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে। দ্রুত দোকান বরাদ্দ দিয়ে ভবনটি চালু না করলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি অবকাঠামোটির আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার জানান, ভাবনহাটি বাজার ভবন নির্মাণ ও হস্তান্তরের বিষয়ে তার আগে কোনো ধারণা ছিল না। পরে কার্যালয়ে খোঁজ নিয়েও সংশ্লিষ্ট ফাইল ও কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্বের কারণে বিষয়টি আগে গুরুত্ব দিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত দোকান বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে”।
ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান পরিতোষ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সুমন বিশ্বাস বলেন, “এলজিইডির নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মাণকাজ শেষ করে যথাযথভাবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর ভবনটি কেন দীর্ঘদিন অব্যবহৃত রয়েছে, সে বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই”।
মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আ. ন. ম. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দোকান বরাদ্দ ও ভবন পরিচালনার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের”।