রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিন। ছবি: ফেসবুক থেকে
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কোটি টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট প্রায় চার বছর ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে। একই সঙ্গে গত মে মাস থেকে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনও বিকল থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। এতে একদিকে হাসপাতালকে প্রতি মাসে বিপুল অর্থ ব্যয় করে তরল অক্সিজেন কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ব্যয়বহুল সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কাগজে-কলমে ১ হাজার ৩০০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। রাজশাহীর পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও ঈশ্বরদীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
করোনা মহামারির সময় জরুরি অক্সিজেনের চাহিদা পূরণে প্রায় ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালে একটি পিএসএ (Pressure Swing Adsorption) অক্সিজেন জেনারেটর প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আনিফকো হেলথ কেয়ার প্ল্যান্টটি স্থাপন করে। তবে চালুর মাত্র ১১ মাসের মাথায় প্ল্যান্টটি বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও এটি আর সচল করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরনের প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য তারা কোনো চাহিদাপত্র দেয়নি। এর আগে ভ্যাকুয়াম ইনসুলেটেড (ভিআই) ট্যাংকের মাধ্যমে তরল অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল, যা হাসপাতালের চাহিদা পূরণে সক্ষম ছিল।
তাদের অভিযোগ, প্ল্যান্টটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ জেনারেটর ও দক্ষ টেকনিশিয়ান সরবরাহ করা হয়নি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর প্ল্যান্ট চালু করতে জটিলতা দেখা দিত। নিরাপত্তার স্বার্থে মূল অক্সিজেন লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত না করে পরীক্ষামূলকভাবে হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের ১৬ আগস্টের পর প্ল্যান্টটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। একাধিকবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে মেরামতের জন্য জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
প্ল্যান্টটি বন্ধ থাকায় হাসপাতালকে বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে তরল অক্সিজেন কিনতে হচ্ছে।
সম্প্রতি বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। পরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে স্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়নে একটি কারিগরি দল গঠন করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে প্ল্যান্টটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সিএমএসডিকেও অবহিত করা হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান একাধিকবার পরিদর্শন করে মেরামতের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
অন্যদিকে, গত মে মাস থেকে হাসপাতালের সিটি স্ক্যান মেশিনও বিকল রয়েছে। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সিটি স্ক্যান করাতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি ভোগান্তিও বেড়েছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে সিটি স্ক্যান করাতে অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের সাবেক মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, তিনি ইতোমধ্যে অন্যত্র বদলি হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালের দায়িত্বে নেই।
তবে অন্য গত ১০ জুলাই এক গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চাপের কারণে সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল হয়েছে। সরবরাহকারী ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত মেশিনটি সচল করার চেষ্টা চলছে।
আর হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।