মাগুরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে
মেডিক্যালে ভর্তি রিজাউল মোল্লার দুই বছরের শিশু। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মাগুরা সদর উপজেলায় স্ত্রী ঋণের টাকা নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় হতাশা ও অভিমানে দুই বছরের ছেলেকে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক যুবক।
গুরুতর অবস্থায় বাবা ও শিশুকে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জাগলাচর বটতলা এলাকায় মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
বিষপানকারী রিজাউল মোল্লা (২৫) ওই এলাকার বাসিন্দা। তার দুই বছরের ছেলে তাহসিনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিশুটির মা পিয়া খাতুনের (১৮) বাড়ি শালিখা উপজেলার দরিশলই গ্রামে।
রিজাউল মোল্লার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ২ জুলাই কিস্তির টাকা উত্তোলনের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন পিয়া খাতুন। পরে কাটাখালী বাজারে একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করলেও তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ জুলাই মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, বলেন তারা।
রিজাউলের বড় ভাই রুবেল মোল্লার দাবি, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রিজাউল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবার তিনি খেতের জমিতে ব্যবহৃত একটি ঘাসনাশক কীটনাশক প্রথমে তার দুই বছরের ছেলে তাহসিনকে পান করান। এরপর নিজেও একই বিষ পান করেন।
তিনি বলেন, বিষপানের পর শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে এসে জানায়, “বাবা আমাকে তিতা খাওয়াইছে।”
বিষয়টি শুনে স্বজনরা ঘরে গিয়ে রিজাউলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পাশেই একটি কীটনাশকের বোতল পড়ে ছিল।পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৃষ্ণ গোপাল জানান, বাবা ও শিশুর অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নতুন কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে, অথবা বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।