× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অন্ধকারে বন্দি তিন প্রজন্মের ১১ জনের জীবন

ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ৮ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

কামাল মিয়া মুন্সি ও লাফুল মিয়া মুন্সিদের পরিবারের ১১ সদস্যই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কামাল মিয়া মুন্সি ও লাফুল মিয়া মুন্সিদের পরিবারের ১১ সদস্যই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৭ নম্বর কামারচক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের করাইয়া হাওরপাড়ে জরাজীর্ণ একটি বাড়িতে বসবাস করেন সহোদর দুই ভাই কামাল মিয়া মুন্সি ও লাফুল মিয়া মুন্সি।

তাদের দুই পরিবারের ১১ সদস্যই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কেউ কখনও পৃথিবীর আলো, আকাশ, প্রকৃতি কিংবা আপনজনের মুখ দেখেননি।

বর্ষা এলেই হাওরের পানিতে তলিয়ে যায় তাদের বসতভিটা। তখন প্রতিবেশীদের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয় পুরো পরিবারকে।

সম্প্রতি তাদের দুর্দশার খবর প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা ও চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, পরিবারটির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ইতিহাস তিন প্রজন্মজুড়ে। দুই ভাইয়ের দাদা ছিলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের বাবা শৈশবে চোখে দেখলেও ১০-১১ বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারান। এরপর জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হন দুই ভাই।

আরও দেখা যায়, বর্তমানে তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের মধ্যেও একই অবস্থা দেখা দিয়েছে। কয়েকজন আবার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার পাশাপাশি মানসিক প্রতিবন্ধিতায়ও ভুগছেন।

৮০ বছর বয়সী কামাল মিয়া মুন্সির পরিবারে রয়েছেন ছেলে জগলু মিয়া (২৭), ফখরুল মিয়া (২৬), মেয়ে সুফি বেগম (৩৮), নাতি সোহান মিয়া (১৫), নাতনি শারমিন বেগম (১৫) ও ফাইজা বেগম (৬)।

এদের সবাই জন্মগত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। সোহান ও শারমিন মানসিক প্রতিবন্ধিতারও শিকার।

অন্যদিকে ৭০ বছর বয়সী লাফুল মিয়া মুন্সির পরিবারে তিনি নিজে ছাড়াও ছেলে সারজক মিয়া (২৮), নাতি আকবর আলী (৬) ও নাতনি আনিকা আক্তার (২) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে কামাল মিয়া মুন্সি বলেন, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকেই চোখে দেখি না। আমাদের ছেলে-সন্তান, নাতি-নাতনিও চোখে দেখে না। আমরা বড় অসহায় অবস্থায় আছি, পেরেশানিতে আছি।

“আমাদের এ খবর পেয়ে সরকারি অফিসাররা আমাদের কিছু খাদ্যসহায়তা করছেন। চোখে না দেখার কারণে আমাদের কোনো কাজকাম নেই। আমাদের অন্যের ওপর নির্ভর করে জীবন চালাতে হয়।”

‘জীবনটা খুব কষ্টের বিনিময়ে চলছে’

সারজক মিয়া বলেন, “আমার বাবাও অন্ধ ছিলেন, আমার দাদাও অন্ধ ছিলেন। আমরা চোখে দেখি না, কোনো কাজকর্ম করতে পারি না। আমরা রাস্তাঘাট দেখি না, কোনো কিছু দেখি না।

“আমরা কোনো কিচ্ছু করতে পারি না। মানুষের দয়ায় কিছু খাবার পাই, তা দিয়েই খাই। এ পর্যন্ত জীবনটা খুব কষ্টের বিনিময়ে চলছে।”

সুফি বেগম বলেন, “আমরা কাজকর্ম করতে পারি না। কেউ আমাদের কাজেও নেয় না। আমরা খুব কষ্ট করে নিজেরা রান্না করে খাই। 

“একবেলা খেলে তিনবেলা খেতে পারি না। এখন মানুষ আমাদের দেখছে, সাহায্য-সহযোগিতা করছে। আমরা আপনাদের জন্য দোয়া করি।”

ফখরুল মিয়া বলেন, “আগে কোনো সহায়তা পাইনি। এখন বন্যার কারণে সাংবাদিক ভাইয়েরা আসার পর জেলা ও উপজেলা থেকে কর্মকর্তারা এসেছেন। তারা সাহায্য দিয়েছেন। 

“সবাই যদি আমাদের দিকে খেয়াল রাখেন, তাহলে আমাদের পরিবার বেঁচে যাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক তাদের বাড়ি পরিদর্শন করে সহায়তা দিয়েছেন এবং চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন।

রাজনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, ওই দুই পরিবারের ১১ জনের মধ্যে ৮ জন বর্তমানে ভাতা পাচ্ছেন। তবে আবেদন না করায় কয়েকজন এখনও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসেননি।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন হলে যোগ্য ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই পরিবারের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মেডিক্যাল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে।

পাশাপাশি তাদের বাড়িতে যাতায়াতের কাঁচা সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা