সজল জামান, জামালপুর
প্রকাশ : ২৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২৩ ঘণ্টা আগে
রাস্তার কাজ উদ্বোধনের নামে সাড়ে তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের সব ইট তুলে নিয়ে গেছে একটি প্রতারক চক্র। প্রবা ফটো
জামালপুর সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ্ মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী মামুনকে উপস্থিত করে জিলাপি বিতরণ করে রাস্তার কাজ উদ্বোধনের নামে সাড়ে তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের সব ইট তুলে নিয়ে গেছে একটি প্রতারক চক্র।
এই ঘটনার পর রাস্তাটি এখন পুরোপুরি কাদার মধ্যে ডুবে গেছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাস্তাটি কবে নাগাদ ঠিক করতে পারবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। ফলে এই রাস্তার ওপর নির্ভর করা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এখন চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের
গজারিআটা বাজার থেকে ময়না মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে তিন কিলোমিটারের এই ব্যস্ত রাস্তায়
গত মে মাসে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, একটি ভুয়া চক্র ঢাকার
বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক সেজে ওই রাস্তাটি পাকা করা হবে বলে এলাকায় প্রচার চালায়।
গত মে মাসে রাস্তার দুই মাথায় বড় করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলা
আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি তাপস স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা উপস্থিত থেকে রাস্তার
কাজের উদ্বোধন করেন কিন্তু উদ্বোধনের পরদিনই চক্রটি বড় ভেকু গাড়ি এনে পুরো রাস্তার
পুরোনো সব ইট তুলে ট্রাকে করে নিয়ে যায়। ভালো ইটের রাস্তাটি এক রাতের মধ্যে মাটির রাস্তায়
পরিণত হয়। পরে অন্য আরেকটি এলাকায় একইভাবে ইট চুরি করতে গেলে গ্রামবাসী চক্রের মূল
হোতাসহ ১১ জনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে ১১ জন জামিনে আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন
বাসিন্দারা বলছেন, দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে এটা এক ধরনের ডাকাতি করা হয়েছে এটাকে চুরি
বলে না। স্থানীয় এমপি, জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি,সদর উপজেলা বিএনপির
সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় বিএনপি'র নেতাকর্মী এবং জেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে প্রতারক চক্রের সদস্যরা
দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ওই রাস্তার ইট চুরি করে
নিয়ে যায় এখানে রহস্যের গন্ধ। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা নিলেন না তাদের কি ঘটনাস্থলে
আসা উচিত ছিল না। দিন-দুপুরে ভুয়া ঠিকাদাররা ইট নিয়ে যাচ্ছে আর এলজিইডি কর্তৃপক্ষ
এটা টের পাইনি এটা কেমন কথা। তারা আরও বলেন, সবার সামনে মাইকিং হলো, জিলাপি খাওয়ানো
হলো তাহলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে পরের দিনই বড় বড় ভেকু গাড়ি এনে পুরো রাস্তার
সব ইট তুলে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হলো? নেতারা আর প্রশাসন কি এতই অন্ধ যে দিনের পর
দিন আস্ত একটা রাস্তা গায়েব হয়ে গেল আর কেউ কিচ্ছু টের পেল না? এর পেছনে ভেতরের কোনো
বড় প্রভাবশালী চক্রের হাত না থাকলে এত বড় ডাকাতি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
মশিউর রহমান নামের এক ভ্যানচালক জানান,
আগে এই রাস্তা দিয়ে আমরা ভালোভাবেই চলাচল করতে পারতাম। এখন একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয়ে
যায়। রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়ার পর এ রাস্তা দিয়ে ভ্যান চালাতে পারছি না তাই ইনকাম
অনেক কমে গেছে।
ময়না মোড় এলাকার এক গৃহবধূ জানান, আমাদের
মিষ্টি খাইয়ে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। এখন গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে একটা ভ্যান গাড়ি ঢোকারও
কোনো রাস্তা নেই। এই কাদার রাস্তা দ্রুত ঠিক না করলে আমাদের কষ্ট শেষ হবে না।
স্থানীয় এমপি মামুন বলেন, এটি একটি
প্রতারক চক্র তারা যে প্রতারক চক্র এটি আমরা বা স্থানীয় জনগণ কেউ বুঝতে পারেনি। পরে
বিষয়টি আমি টের পেলে এলজিইডিকে অবহিত করি। এ বিষয়ে জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী
রোজদিদ আহম্মেদ জানান, রাস্তা থেকে ইট চুরি হয়েছে বিষয়টি আমি জানি। রাস্তাটি দ্রুত
সংস্কার করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে— দুই মাস, তিন মাস নাকি ছয় মাস
তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, কিছু দাপ্তরিক
প্রক্রিয়া রয়েছে, জেলা অফিস থেকে ওপরের মহলে কাগজপত্র পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে অনুমোদন
এলেই দ্রুত দরপত্র ডেকে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে।
জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
(ইউএনও) নাজনীন আক্তার বলেন, বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সাধারণ মানুষের
চলাচলের সুবিধার জন্য খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑ যাতে এলাকার মানুষ
কোনো ভোগান্তি ছাড়া যাতায়াত করতে পারেন।