× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইউএনওর হস্তক্ষেপে ঘরে ফিরলেন বৃদ্ধা

পাকা ভবনে থাকেন ছেলেরা, মায়ের ঠাঁই খোলা আকাশের নিচে

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৪:১৮ পিএম

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৪:২৪ পিএম

৮০ বছরের আরেসের নেছার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

৮০ বছরের আরেসের নেছার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

চার ছেলে ও এক মেয়েকে মানুষ করতে জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর একাই সন্তানদের লালন পালন করেছেন। তাদের লেখা পড়া করিয়েছেন।

মেয়েকে ভালো পাত্র দেখে বিয়েও দিয়েছেন। অথচ শেষ বয়সে এসে সেই মায়ের নিদারুণ কষ্টে সময় কাটছে। খোলা আকাশের নিচে একটি পুরোনো চৌকিই তারা আশ্রয়স্থল। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষের মন ব্যথায় ভরে ওঠে। শুরু হয় সমালোচনা। পরে উপজেলা ইউএনও তারিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে সেই মা ছেলেদের ঘরে ফিরেছেন।

ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরেসের নেছারকে ঘিরে। তিনি প্রায় ৮০ বছর বয়সে পা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী হাজরত আলীর মারা গেলে আরেসের নেছা শত অভাব-অনটনের মধ্যেও একাই চার ছেলে ও এক মেয়েকে লালনপালন করেন। তার ছেলেরা হলেন- আব্দুর রহিম, মোমেন মিয়া, হুমায়ুন কবির ও ইয়াসিন মিয়া। এর মধ্যে ইয়াসিন মিয়া মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ের নাম কুলসুম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস ধরে তৃতীয় ছেলে হুমায়ুন কবিরের পাকা ভবনের পাশেই একটি পুরনো চৌকিতে দিনরাত কাটছিল বৃদ্ধার। টানা বর্ষণে চৌকিটি ভিজে যাওয়ায় তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অসুস্থ অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে তার বসবাসের ছবির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই বয়স্ক মায়ের প্রতি ছেলেরা এমন নিষ্ঠুর আচরণ করতে পারেন, তা মেনে নিতে পারছেন না। ছেলেদের এমন অবহেলার নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

বিষয়টি ইউএনও তারিকুল ইসলামের নজরে এলে  রবিবার (১২ জুলাই) তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধার খোঁজখবর নেন। তাকে ছেলেদের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সোমবার (১৩ জুলাই) ইউএনও কার্যালয়ে তলব করা হয়।

এ বিষয়ে বৃদ্ধার ছেলে হুমায়ুন কবির বলেন, মা আমাদের ওপর অভিমান করে প্রায় এক মাস ১৫ দিন বাইরে ছিলেন। আমরা অনেকবার বুঝিয়ে ঘরে আনতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি রাজি হননি। এখন তার অভিমান কমেছে। আমরা তাকে ঘরে নিয়ে এসেছি। আমাদের সামর্থ্য আছে। আমরা অবশ্যই মায়ের দেখাশোনা করব।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, বৃদ্ধার কিছুটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাকে ঘরের ভেতর রাখা হলেও তিনি প্রায়ই বাইরে চলে যেতে চান। বিষয়টি না জেনে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।

আরেসের নেছা বলেন, নাতি বউরা আমাকে জ্বালাতন করত। তাই অভিমান করে ঘর ছেড়ে বাইরে ছিলাম। এখন ছেলে-নাতিদের সঙ্গে অভিমান মিটে গেছে। তাই ঘরে ফিরে এসেছি।

উপজেলা ইউএনও তারিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে রাতেই ঘটনাস্থলে যাই। বৃদ্ধাকে তার ছেলের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ডেকে তাদের দায়িত্ব ও আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয়ে জানানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা