খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪১ পিএম
আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৩ পিএম
খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালনা কমিটির ১৩তম সভা প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নগরবাসী যেন দ্রুত ও দৃশ্যমান সেবা পায়, সে লক্ষ্যেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে।
এমন নির্দেশনা দিয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচালনা কমিটির ১৩তম সভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, সবুজায়ন ও নগর উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ সিদ্ধান্তের কথা জানান কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় ৭৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ, রাতে বর্জ্য অপসারণ, রূপসা স্লুইসগেটে পরীক্ষামূলক পাম্প স্থাপন এবং আগামী মাসের শুরুতে নতুন বাজেট ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভার শুরুতে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসসহ সারাদেশে টানা অতিবর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
সভায় নগরীর সেবার মান বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগরীতে ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমোদনক্রমে দৈনিক মজুরিভিত্তিক ১০০ জন শ্রমিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারে আরও ৬৫০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করা হবে।
সভায় সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে বেসরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খুলনা ওয়াসা কর্তৃক খনন করা সড়ক দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে কেসিসি ও ওয়াসার মধ্যে সমন্বয় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারের মাধ্যমে নগরীর বড় ড্রেনগুলো থেকে বর্জ্য অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুপুরের পর বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) নেওয়া হবে। পরে দিনের পরিবর্তে রাতের বেলায় এসটিএস থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে রূপসা স্লুইসগেটে পরীক্ষামূলকভাবে পাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন পাইকারি কাঁচাবাজারে অনুমোদনহীন ৫৩টি আড়ৎঘরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় আগামী মাসের প্রথম দিকে কেসিসির ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।
ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পিটিআই মোড় ও নতুনবাজার মোড়ের এসটিএস স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমি এবং কবির বটতলা ও কল্পতরু মার্কেটসংলগ্ন এসটিএস স্থানান্তরের জন্য কেডিএর মালিকানাধীন জমি বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরালা কবরখানাসংলগ্ন এসটিএসে যাতায়াতের জন্য কেডিএ নির্মাণাধীন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করারও অনুরোধ জানানো হবে।
রূপসা পাইকারি মৎস্যবাজারসংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে হাঁস-মুরগি ও ডিমের পাইকারি বাজার নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দ এবং নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রির জন্য সুবিধাজনক স্থান নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত দুটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে ছোট খেলার মাঠ এবং শিশুদের জন্য ছোট ছোট পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ হাদিস পার্কসংলগ্ন খুলনা ওয়াসার ছয়টি ক্লোরিন গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রাহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) শাহনেওয়াজ খালেদ, কেডিএর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) এম এম মাহমুদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।