ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১২:৪৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফরিদের (ফরিদ মেম্বার) বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং অবৈধভাবে পুকুর খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহীন মিয়া ধনবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে উপজেলা ইউএনও ও ধনবাড়ী প্রেস ক্লাবেও অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগ এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে শাহীন মিয়ার অভিযোগ, একই গ্রামের আব্দুল আজিজ খলিফার ছেলে আব্দুল্লাহ আল ফরিদ বিএনপির কৃষক দলের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
শাহীন মিয়ার দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এক রাতে নির্জন রাস্তায় তাকে আটকিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন ফরিদ।
পরে আবারও তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। তার গরুর খামার থেকে গরু চুরির ঘটনার সঙ্গেও ফরিদ জড়িত।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শাহীন মিয়ার বসতবাড়ির পেছনে নিজ জমিতে পুকুর খনন করেন অভিযুক্ত। এতে পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবহৃত একটি সিমেন্টের পাইপ সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গিয়ে শাহীন মিয়ার বাড়িসহ আশপাশের বসতবাড়ি, বাজিতপুর আমির হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
শাহীন মিয়া আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে ফরিদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাই তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আলপনা বেগম, সেলিনা আক্তার, ফিরোজা বেওয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, পুকুর খননের পর থেকে পশ্চিম দিক দিয়ে পানি বের হতে পারছে না। ফলে বাড়িঘরে পানি ঢুকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় বিভিন্ন রোগব্যাধিও দেখা দিচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাজিতপুর আমির হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক বলেন, আগে বিদ্যালয়ের মাঠের পানি দক্ষিণ-পশ্চিম পাশ দিয়ে সহজেই বের হয়ে যেত। কিন্তু সেখানে পুকুর খননের পর পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মাঠে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকছে এবং শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও স্বাভাবিক চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি স্থায়ীভাবে মাঠ ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল ফরিদ বলেন, আমি আমার নিজস্ব জমিতে পুকুর খনন করেছি। এতে কোনো অবৈধ কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগ পুরোপুরি ভুয়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রিনা খাতুনের স্বামী সুরুজ্জামান সুরুজ বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানি জমে মানুষের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে তিনি পুকুরের পাড়ের একটি অংশ কেটে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য স্কুল মাঠ ভরাট এবং একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার ওসি নূরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ধনবাড়ী থানা এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই।