ঝুঁকিতে বোহাইল বাজার
অরুপ রতন, বগুড়া; রফিকুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬ ১১:৪৯ এএম
সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা ও বাঙ্গালি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা বৃষ্টিতে যমুনা নদী আবারও ভয় দেখাতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। পানি এখনও বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫৫ মিটার নিচে থাকলেও নদীর দুই তীরজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন করে ভাঙন। ধুনটে স্পার নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, সারিয়াকান্দিতে ঝুঁকিতে পড়েছে বাজার, বসতভিটা, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নদীপাড়ের মানুষ ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। সবচেয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বোহাইল বাজার নিয়ে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বাজারটির একাংশ যমুনার গর্ভে চলে যেতে পারে। ইতোমধ্যে হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টায় সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৭০ মিটার (এসওবি)। এটি বিপৎসীমা ১৬ দশমিক ২৫ মিটারের ১ দশমিক ৫৫ মিটার নিচে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার বেলা ৩টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
টানা বর্ষণে শহরের সাতমাথা, জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর, মালতীনগর, চেলোপাড়া, কাটনারপাড়া, ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা ও বাঙ্গালি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে বোহাইল বাজারে। নদীর ভাঙন বাজারের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পানি আরও বাড়লে যেকোনো সময় বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
হাটশেরপুর ইউনিয়নের চকরথিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন যমুনার ভাঙনে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভবন হারিয়েও থেমে নেই শিক্ষা কার্যক্রম। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে শ্রেণিকক্ষ।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সারিয়াকান্দির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী লিটন আলী বলেন, “চরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে ভাঙন রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তা সহনীয় পর্যায়ে আছে। যেখানেই খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই জিওব্যাগ ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা হচ্ছে।”
পাউবোর বগুড়া পওর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছেন। ভাঙন মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে”।