খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
খুলনা নগরীর হরিণটানা থানার একটি বাড়ির আঙিনা খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। প্রবা ফটো
খুলনা নগরীর হরিণটানা থানার মোস্তুর মোড়সংলগ্ন রেলক্রসিং এলাকার একটি বাড়ির আঙিনা খনন করে মাটিচাপা দেওয়া এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
রমজান মাসের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া ওই চালককে হত্যা করে বাড়ির
আঙিনায় পুঁতে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হরিণটানা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বাড়ির আঙিনায় খননকাজ শুরু করে। অভিযান চলাকালে হত্যাকাণ্ডের
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায়
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির মালিক দম্পতি মুরাদ ও ফাল্গুনীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসের প্রথম দিকে ইজিবাইক
চালককে ভাড়ার কথা বলে ওই বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে খাবারের সঙ্গে অজ্ঞান করার
মতো কোনো পদার্থ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরে তাকে হত্যা করে বাড়ির
আঙিনায় মাটিচাপা দেওয়া হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত ইজিবাইকের
খুলনা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন নম্বর ছিল ১৬৭২। হত্যাকাণ্ডের পর ইজিবাইকটির বিভিন্ন
যন্ত্রাংশ খুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে
তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে কিছুটা দূরে নতুন গড়ে
ওঠা আবাসিক এলাকায় বাড়িটি অবস্থিত। সেখানে এমন একটি ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায়
চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড়ও দেখা যায়।
হরিণটানা থানা পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম গোলাম মোস্তফা মারুফ হতে পারে। তবে এখনো তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি মুজগুন্নী বা আশপাশের এলাকার বাসিন্দা হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।