গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মোনাজাত করেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালের গৌরনদীতে সোমবার একযোগে আড়াই হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং দেশের টেকসই উন্নয়নের প্রতীক। তিনি প্রতিটি নাগরিককে বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং সেই গাছের পরিচর্যার আহ্বান জানান। লাগাই গাছ সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ- স্লোগান ধারণ করে সবাইকে দেশ গঠনের কাজে অংশ নেওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, কখনও বৃষ্টি বেশি হচ্ছে, কখনও বৃষ্টি হচ্ছে না, এখন আগের মতো শীত পড়ে না ,আবার বেশি পড়ে। দেশে ২০ কোটি গাছ প্রয়োজন। যে পরিমাণ গাছ দেশে প্রয়োজন, সেই পরিমাণ গাছ আমাদের দেশে নেই। তাই পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। আগামী ৫ বছরে আমরা সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করব।
তিনি বলেন, গাছ রোপণ করে চলে গেলেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। একটি শিশুর জন্মের পরে তাকে যেভাবে লালন পালন করে বড় করতে হয়। ঠিক সেই ভাবে গাছ রোপণ করে শিশুর মতো যত্ব নিতে হবে। গাছটি একটা সময় বড় না হওয়া পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হবে। গাছটি বড় হলে গাছের ছায়ায় শান্তিমতো বসতে পারবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বনভূমি বাড়ানো, নদী ও খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।
এর আগে সকাল ১০টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বাটাজোর-সরিকল খালের বাটাজোর অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাকে বরণ করে সভামঞ্চে নিয়ে যান।
গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ মিনিট বক্তব্য প্রদান শেষে বেলা ১০টা ৫ মিনিটে প্রথমে একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। সঙ্গে সঙ্গে খালের দুই পারে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া আড়াই হাজার নেতা-কর্মী একযোগে চারা রোপণ করেন।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছ, একটি অর্জুন গাছ ও একটি আম গাছ রোপণ করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী একটি নিম গাছের বনসাই প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন। পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বেলা ১০টা ৪০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয়য় অনুষ্ঠানস্থল বাটাজোর অশ্বীনি কুমার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ডপ্রাপ্ত সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
উল্লেখ্য, আগেই গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের ৬টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্তিত ছিলেন।