× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শহরজুড়ে অর্ধশতাধিক পুরনো ভবন

একদিকে পাইলিং, অন্যদিকে ভেঙে পড়লো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন

মিলাদ হোসেন অপু, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে

ভৈরব পৌর শহরের দুধ বাজার এলাকায় রবিবার রাতে ভেঙে পড়া ভবন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ভৈরব পৌর শহরের দুধ বাজার এলাকায় রবিবার রাতে ভেঙে পড়া ভবন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একদিকে চলছে ১০ তলা ভবনের পাইলিং অপরদিকে আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়েছে পুরনো একটি জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। অল্পের জন্য রক্ষা পেল ভবনের নিচে থাকা ব্যবসায়ীরা। 

রবিবার (১২ জুলাই) রাত ৯টায় পৌর শহরের দুধ বাজার এলাকায় তারেক মিয়া নামে এক ব্যক্তির ভবন ভেঙে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব পৌর প্রশাসক ও উপজেলা ইউএনও কে.এম মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, পুরনো প্রায় অর্ধশতাধিক ভবন রয়েছে ভৈরব শহরজুড়ে। পৌর প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বছরের পর বছর ভবনগুলো শত ঝুঁকির মধ্যেও ব্যবহার করছে মালিকপক্ষ।

ব্যবসায়ীরা এগুলো ভাড়া নিয়ে কেউ করেছে গোডাউন আবার কেউ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ভবনগুলোর নিচেও গড়ে উঠেছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 

ভবনগুলোর পাশে রয়েছে মসজিদ ও নতুন নতুন বিল্ডিং। শহরের দুধ বাজার, নদীরপাড়, হলুদ পট্টি, রানীর বাজার, চক বাজার, নতুনগল্লি, লোহাপট্টি ও টিনপট্টিসহ বাজার এলাকায় নদীপাড় ঘেঁষা এলাকায় বেশ কয়েকটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এগুলো বাজারে পাশে হওয়ায় এসবের পাশে বা নিচে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এলাকায় আনাগোনা করলেও সাপ্তাহিক হাটে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে কয়েক হাজার মানুষ বাজারে আসে তাদের প্রয়োজনীয় কেনা কাটার জন্য। 

পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নিচে চলে রমরমা ব্যবসা ও বুধবারের সাপ্তাহিক হাট। এ ঘটনায় ভৈরব বাজারে থাকা বাসিন্দারা রয়েছেন চরম আতঙ্কে।

এদিকে পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিশ দিলেও গুরুত্ব দেয়নি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মালিকপক্ষ। রবিবার রাত ৯টায় দুধ বাজার এলাকায় হঠাৎ ভেঙে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি। তবে রবিবার বাজার বন্ধের দিন হওয়ায় সেখানে তেমন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিচে থাকা ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভৈরব বাজারে নতুন ভবন তৈরি করতে পাইলিং ব্যবহার করা হয়। অধিক ঝাঁকুনিতে নতুন ভবনগুলোই কেঁপে উঠে। সেই সঙ্গে পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আরও ঝুঁকিতে থাকে। 

দুধ বাজারে তারেক মিয়ার পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশে একটি নতুন ভবনের পাইলিং হচ্ছে। তাই রবিবার দুপুরে তারেক মিয়ার ভবনের বারান্দার একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে। পরে রাত ৯টায় পুরো বারান্দা ভেঙে নিচে পড়ে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, একাধিক বার আমরা পুরাতন জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার ও পৌর প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশে একটি নতুন ভবনের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। পাইলিংয়ের শব্দে আমরাই আঁতকে উঠি। আজ অল্পের জন্য একজন ব্যবসায়ী বেঁচে গেল। অপর ব্যবসায়ীরা কোনো রকম বেঁচে গিয়ে বাড়ি চলে গেছে। আমরা চাই শহরের চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপসারণ করা হোক।

এ বিষয়ে ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার আল আমিন বলেন, আমরা ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ উপলক্ষে দুইমাস আগেও বাজারে বেশ কয়েকটি পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের অপসারণের পরামর্শ দিয়েছি। এখানে শুধু ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ না পথচারী ও ব্যবসায়ীরা রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। খবর পেয়ে আমরা এসেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন বলেন, পৌরসভার কর্তৃপক্ষ যখনই জেনেছে ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, তখনই মালিকপক্ষকে নোটিশ করেছে। মালিকপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ না করলে পরবর্তী আর নোটিশ নয় পৌরসভার পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা ইউএনও ও পৌর প্রশাসক কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, এক সপ্তাহ আগেও ভৈরব বাজারে বেশ কয়েকজন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ভবনগুলো বাজার এলাকায় অপর দিকে রবিবার বন্ধের দিন হওয়ায় বাজারে মানুষের যাতায়াত কম ছিল। তাই ভাগ্য ভালো কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন আর মালিক পক্ষকে সুযোগ দেওয়া হবে না। পৌর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩ জুলাই থেকে ভেঙে যাওয়া ভবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করার প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।




শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা