টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ঘণ্টা আগে
টানা বর্ষণে কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে এটি মারা যায়।
এর আগে গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় ২০-২৫ বছর বয়সী মা হাতিটি। নিচে পড়ার সময় হাতিটি বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে পেছনের পা দুটি ভেঙে যায় এবং পেটের কিছু অংশ কেটে যায়। খবর পেয়ে বন বিভাগের চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটিকে চিকিৎসা দেন।
এই পাহাড়ে এশিয়ান জাতের অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, শনিবার দুপুরে হঠাৎ বিকট শব্দের পর হাতির চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি একটি মা হাতি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পেট থেকে রক্ত ঝরছিল, যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল। দুটি পা ভেঙে গেছে বলেও মনে হচ্ছিল। পরে বন বিভাগের লোকজন এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো গেল না।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ের চূড়ায় গাছ ও লতাপাতা খাওয়ার সময় হাতিটি নিচে গড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে তা ধসে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জের কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। এরপর টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় হাতিটিকে অন্যত্র স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, চলমান ভারী বর্ষণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় হাতিসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।