প্রবা প্রতিবেদক, নীলফামারী ও রংপুর
প্রকাশ : ১৮ ঘণ্টা আগে
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের এক নারী ও তার দুই শিশুসন্তান রয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) বিকালে উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুর-নদীয়া এলাকায় ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেনÑ নাদিয়াপাড়া এলাকার অলি বর্মনের ছেলে ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রদীপ বর্মনের স্ত্রী প্রতিমা রানি (২৮) এবং তাদের দুই সন্তান পিতোসা (৮) ও যাদব (৪)।
স্থানীয়রা জানান, যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত একটি ভ্যান ডোমার থেকে জলঢাকার দিকে যাচ্ছিল। পাঙ্গা মটুকপুর-নদীয়া এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালকসহ চারজনের মৃত্যু হয় এবং আরও দুইজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। আহত দুইজনকে প্রথমে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মেয়েকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে গিয়ে বাসচাপায় বাবার মৃত্যু
রংপুরে মেয়েকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে বাসচাপায় আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় জিয়াদপুকুর মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এবং মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসে আগুন দেয়। পুলিশ বাসচালক মুর্তূজাকে আটক করেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর মডার্ন মোড়ের তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তাজহাট থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, আবুল কাশেম মেয়েকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী একটি বাস লোকাল লেনে প্রবেশ করে ইউটার্ন নেওয়ার সময় পেছনে থাকা মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল কাশেম মারা যান। তবে তার কোলে থাকা মেয়ে অক্ষত থাকে। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা বাসে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। প্রায় এক ঘণ্টা বিক্ষোভের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। বাসচালককে আটক করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান ওসি।