খুলনা অফিস ও মোংলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ঘণ্টা আগে
শিকারিদের পাতা ফাঁদে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও পরিচর্যা শেষে সুন্দরবনে ফিরেছে রয়েল বেঙ্গল বাঘিনী। রবিবার (১২ জুলাই) সকালে পূর্ব সুন্দরবনের আন্ধারমানিক বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করে বন বিভাগ।
এ সময় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামসহ বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বাঘিনীটির চলাচল ও আচরণ পর্যবেক্ষণের জন্য এর গলায় রেডিও কলার সংযুক্ত করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের সড়কিখাল সংলগ্ন এলাকায় শিকারিদের পাতা হরিণ ধরার ফাঁদে আটকে পড়া একটি স্ত্রী বাঘ উদ্ধার করে বন বিভাগ। এতে তার সামনের বাম পা গুরুতরভাবে আহত হয়। দীর্ঘ সময় খাদ্য গ্রহণ করতে না পারায় প্রাণীটি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। পরে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের উদ্ধার কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে বন বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে প্রাণীটি।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. হাতেম সাজ্জাদ বলেন, বাঘটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার উপযোগী। অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আবার বনে অবমুক্ত করার ঘটনা বাংলাদেশে এটিই প্রথম। তিনি আরও বলেন, গত ছয় মাস ধরে চিকিৎসক ও বন বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বাঘটির চিকিৎসা ও পরিচর্যা করা হয়েছে। বর্তমানে এটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক ক্ষিপ্রতাও ফিরে পেয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, অবমুক্তির পর বাঘটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য এর বিচরণ এলাকায় ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রেডিও কলারের মাধ্যমে বাঘটির অবস্থান ও চলাচলও পর্যবেক্ষণ করা হবে।