ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ঘণ্টা আগে
ফরিদপুরের সালথায় কৃষকের কাছ থেকে একমুঠো ধান ক্রয় না করেই ক্ষমতাসীন দলের নেতা, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী মিলে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লাখ টাকা।
কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান কেনায় এবং কৃষকের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ফাঁস হলে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় জড়িত উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এ বছর সরকারিভাবে ৫২ টন ধান সংগ্রহের কথা বলা হয়। সরকারি নির্দেশ মতে, কৃষকের কাছ থেকে এসব ধান কেনার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। জুন মাসে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে ফরিদপুরের কানাইপুরের বিপ্লব সাহা, সালথার রাজনৈতিক নেতা শাহিন মাতুব্বরসহ তিনজনের কাছ থেকে ধান কেনা হয়। প্রতি কৃষকের কাছ থেকে ৩টন করে ধান কেনার কথা থাকলেও তিন ব্যবসায়ী মিলেই ৫২ টন ধান সরবরাহ করেন। ফলে প্রকৃত কৃষক ৩৬ টাকা দরে ধান বিক্রি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আর ব্যবসায়ীরা খাদ্যগুদামে ধান দিয়ে ফায়দা লুটছেন। প্রতি বছর এভাবে কৃষককে ঠকিয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রক-ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুটছেন।
জানা গেছে, ধান সংগ্রহের জন্য আবেদন করার কথা বলা হলেও তা গোপন রাখা হয়। পরবর্তীতে তিন ব্যবসায়ী স্থানীয় কৃষি অফিস ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে কৃষকের আইডি কার্ড সংগ্রহ করেন। সেই আইডি কার্ডের বিপরীতে স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। যদিও যার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে সেই কৃষক জানতেও পারেন না। যেই কৃষকের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয় তার নামে খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহ করা হয়। ধান সরবরাহের সময় প্রতি কৃষকের বিপরীতে টনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করে নেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান। আর স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে যে কৃষকের নাম সত্যায়িত করা হয় সেখানেও ব্যবসায়ীরা টাকা দিয়ে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট মিলে হাতিয়ে নিচ্ছেন কয়েক লাখ টাকা। এভাবেই কৃষকদের ঠকিয়ে ভয়াবহ জালিয়াতির মাধ্যমে খাদ্য নিয়ন্ত্রক-ব্যবসায়ী হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। স্থানীয় কয়েক কৃষক জানান, তাদের কাছ থেকে এক ছটাক ধানও কোনো বছর কেনা হয় না। তারা ধান দিতে গেলে নানা অজুহাতে তা বাতিল করা হয়। মূলত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হয়। খাতা-কলমে কৃষকের নাম ব্যবহার হলেও সুবিধাভোগ করেন ব্যবসায়ীরা। কৃষকের দাবি, যেইসব কৃষকের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। তদন্ত করলে আসল সত্য ফাঁস হয়ে যাবে। স্থানীয় কৃষকের দাবি, যারা ধান ক্রয়ের সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত তাদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সালথা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে এ বছরে গুদামে ধান বিক্রি করা কৃষকের তালিকা চাওয়া হলে তিনি তালিকা দেখে জানাবেন বললেও আর জানাননি।
এ বিষয়ে সালথা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসানের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোনে টেক্সট করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।