বন্যার পানিতে আশ্রয়স্থল ও বসতবাড়িতে সাপ ঢুকে পড়ায় এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৭৫ জন আহত হয়েছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বন্যাকবলিত চট্টগ্রামে পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাপের উপদ্রব। বন্যার পানিতে আশ্রয়স্থল ও বসতবাড়িতে সাপ ঢুকে পড়ায় এখন পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৭৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২০ থেকে ২৫ জন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম রবিবার এসব তথ্য জানান।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাপের কামড়ে আহতদের মধ্যে বোয়ালখালীতে ২০ জন, পটিয়ায় ২২ জন, রাউজানে ১৪ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩ জন, সাতকানিয়ায় ৩ জন, চন্দনাইশে ৩ জন এবং লোহাগাড়ায় ২ জন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বন্যার সময় আশ্রয়কেন্দ্র ও বসতবাড়িতে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সাপে কাটার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সাপে কাটার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে”।
তিনি বলেন, “একই সময়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে বন্যার পানি নেমে গেলে দূষিত পানি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের কারণে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে”।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় সতর্ক থাকা, পানিতে নামার আগে লাঠি দিয়ে জায়গা পরীক্ষা করা এবং সাপে কাটলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং ডায়রিয়াসহ যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।