কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে খামারটি প্লাবিত হলে প্রায় ১৫০০ মুরগি মারা যায়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বেকারত্ব কাটিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি পোল্ট্রি খামার। কিন্তু টানা বর্ষণের এক রাতেই পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে গেল সেই স্বপ্ন। চোখের সামনে মারা গেল খামারের প্রায় দেড় হাজার মুরগি। এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাদেক।
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ডাকবাংলা পাড়া এলাকায় গত শুক্রবার রাতে সাদেক পোল্ট্রি ফার্মে এ ঘটনা ঘটে।
পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে খামারটি প্লাবিত হলে প্রায় ১৫০০ মুরগি মারা যায়। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাদেক জানান, রাতভর ভারী বৃষ্টির পর হঠাৎ পাহাড়ি ঢলের পানি খামারে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে ছুটে গিয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করেও একটি মুরগিকেও বাঁচাতে পারেননি। অল্প সময়ের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে মারা যায় সব মুরগি।
কণ্ঠে হতাশা নিয়ে সাদেক বলেন, “বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসারের হাল ধরতে পোল্ট্রি খামার শুরু করেছিলাম। এখন ঘরেও পানি উঠেছে, আবার খামারের সব মুরগিও মারা গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া আবার নতুন করে শুরু করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়”।
স্থানীয়রা বলছেন, পোল্ট্রি খামারটিই ছিল সাদেকের পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। খামারের এমন ক্ষতিতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সাদেকের এই বিপর্যয়ের খবর পেয়ে বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মো. আরেফিন ক্ষতিগ্রস্ত খামারটি পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য শিমুল দাশও উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত খামারির খোঁজখবর নেন, এবং সমবেদনা জানান।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ধাক্কায় সাদেকের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এখন তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা পেলে আবারও নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ মিলবে।