× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফটিকছড়িতে ষষ্ঠদিনেও পানিবন্দি ৭ হাজার মানুষ

ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

বাঁধ উপচে হুহু করে লোকালয়ে ডুকছে হালদার পানি। ফটিকছড়িতে ষষ্ঠদিনেও পানিবন্দি ৭ হাজার মানুষ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাঁধ উপচে হুহু করে লোকালয়ে ডুকছে হালদার পানি। ফটিকছড়িতে ষষ্ঠদিনেও পানিবন্দি ৭ হাজার মানুষ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ষষ্ঠদিনেও উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানির নিচে রয়েছে। এতে ৩০ গ্রামের প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার ঘরবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পাহাড়ি ঢলে হালদা নদীর পানি বেড়ে কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে ও ভেঙে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি।
গহিরা-হেয়াকো সড়ক ও নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলের চাপ বেড়ে হালদা নদীর পানি আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করছে। কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বাঁধ উপচে গ্রামে ঢুকে পড়েছে। দুপুরের পর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ফের বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হালদা নদী ছাড়াও বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করেছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন দুর্গতরা।
প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে—পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচাঁন, ভূজপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের করাতিপাড়া, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড, পাটিয়ালছড়ি ও বড়ুয়াপাড়া, সুয়াবিল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া, মাইজপাড়া ও বারোমাসিয়া, সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া, বড় ছিলোনিয়া, আজিমপুর, পূর্ব আজিমপুর, পশ্চিম সুন্দরপুর ও দাশপাড়া, রোসাংগিরী ইউনিয়নের মাইজভান্ডারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড, লেলাং ইউনিয়নের রায়পুর, শাহনগর, দারুল আলী তালুকদারবাড়ি, নারায়ণহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং ধর্মপুর, জাফতনগর ও সমিতিরহাটের কিছু নিম্নাঞ্চল।
সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়ার বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন জানান, হালদা নদীর বাঁধ উপচে পুরো গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। কোথাও কোমর পানি, আবার কোথাও হাঁটুপানি। চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পূর্ব আজিমপুরের বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, “রাত থেকে হালদা নদীর পানি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ঢুকছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে”।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের পাটিয়ালছড়ি এলাকার বণিকপাড়ার বাসিন্দা লক্ষণ বণিক বলেন, “আমাদের বণিকপাড়ার সামনের হালদার পাড় অল্পতে আটকে আছে যেকোনো সময় ভেঙ্গে পুরোগ্রাম ডুবে যেতে পারে। চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের লোকজন কয়েকবার এসে ভাঙ্গনটি দেখে গেছে কই কিছুই তো হয়নি”!
বখতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক-উল আজম বলেন, “বখতপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গত তিন দিন ধরে প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে”।
এদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গত এলাকায় পৌঁছে পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করছেন সেনাসদস্যরা।
এর আগে শনিবার দুপুরে নাজিরহাট পৌরসভার রশিদাপুকুর এলাকায় হালদা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিমউদ্দিন শাহীনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে ৫ থেকে ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে”।
শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা