× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পানিবন্দি ৭ লক্ষাধিক মানুষ মহাদুর্ভোগে, আরও ১১ জনের মৃত্যু

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

পানিবন্দি ৭ লক্ষাধিক মানুষ মহাদুর্ভোগে, আরও ১১ জনের মৃত্যু

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও কিশোরগঞ্জে বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ৭ লক্ষাধিক মানুষ মহাদুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যা ও ভারী বর্ষণজনিত কারণে দুর্ঘটনায় আরও ১১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে নিখোঁজ এক কিশোরের মরদেহ। বিভিন্ন স্থানে বিশুদ্ধ পানি, তীব্র খাবার সংকট ও গোখাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণবিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এদিকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া রবিবার থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত 

কিছু এলাকায় উন্নতির খবর মিললেও চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলায় পানিবন্দি রয়েছেন ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ। প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছে, বৃষ্টি কিছুটা কমায় কোনো কোনো এলাকায় সামান্য উন্নতি হয়েছে, তবে সামগ্রিক চিত্র এখনও উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীও।

এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি বন্যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘি ও চিংড়িঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং চূড়ান্ত হিসাবে শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়িসহ একাধিক উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও পানির নিচে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ।

সাঙ্গু ও ডলু নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং কবলিত এলাকার অনেক রাস্তাঘাট এখন পানির নিচে। একই অবস্থা বাঁশখালী উপজেলাতেও, যেখানে পানির চাপে ধসে পড়েছে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় জেলায় এ পর্যন্ত ৫৪০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৩০ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১৭ হাজার ২৫০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মজুদ রয়েছে আরও ১৬০ মেট্রিক টন চাল এবং ১৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ।

১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত 

এদিকে বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিতের তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশেকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ৫ জন জেলা প্রশাসক মতামত নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে জুম মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলো হলোÑ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে জানা গেছে।

৫ দিন পর ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে রবিবার 

অপরদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ৫ দিন পর রবিবার থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। ট্রেন চলাচলের উপযোগী করতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মো. ইমতিয়াজ হোছাইন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল পাঁচ দিন বন্ধ রয়েছে।

কক্সবাজারে বন্যার উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি 

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি। এখনও জেলার অন্তত ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত, পানিবন্দি রয়েছেন লাখো মানুষ। বেশিরভাগ এলাকায় মানুষের ঘরে খাবার নেই, আর থাকলেও রান্নার সুযোগ নেইÑ চুলা জ্বালানোর মতো পরিবেশ নেই।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ৬৯টি ইউনিয়ন কম-বেশি প্লাবিত হয়েছে। শুধু ৪০টি ইউনিয়নেই প্রায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। হাজারো বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক-উপসড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও মৎস্যঘের তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রামুতে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে নিখোঁজের চারদিন পর শনিবার সকালে সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (১৩) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার বিকালে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সাজিদ।

এদিকে শনিবার মাতামুহুরী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান।

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি 

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতা মুহুরীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নতুন নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বন্যার পানি আরও বাড়তে দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে প্লাবিত ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ৫ হাজারের ও বেশি দুর্যোগকবলিত জনগণ বিভিন্ন কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের দুধ পুকুরিয়া এলাকায় সেতু দেবে গিয়ে ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে বান্দরবান-রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

রাঙামাটিতে পানিবন্দি মানুষ, সেতু ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: জেলার হ্রদবেষ্টিত ৬টি উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টিতে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে ব্রিজঘাট এলাকায় সেতু একাংশ ধসে যাওয়ায় রাঙামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

খাগড়াছড়িতে পানিবন্দি হাজারো মানুষ 

ভয়াবহ বন্যায় জেলার দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর, মহালছড়ি, পানছড়ি ও কমলছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বহু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং কয়েক হাজার একর কৃষিজমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আড়াই হাজার পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত খাগড়াছড়ির বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। তিনি বলেন, আপাতত দুর্গত মানুষের খাদ্য সহায়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার বিকালে খাগড়াছড়ির বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মৌলভীবাজারের বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য, ওষুধ ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট 

ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া এবং সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার পরিবারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শনিবার সরেজমিন রাজনগর উপজেলাসহ বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ মানুষ এখন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় এখন পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবারে ২৬ হাজার ৫৪৪ জন মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দুর্গত মানুষের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে।

কিশোরগঞ্জের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি 

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের নাকভাঙ্গা এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ও রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবারের চুলায় আগুন জ্বলছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা।

শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, এলাকার অধিকাংশ বসতবাড়ি, উঠান ও সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

পানিবন্দি পরিবারগুলোর দাবি, ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রান্নাঘরে পানি ওঠায় অনেক পরিবার শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছে। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। টিউবওয়েলের চারপাশ পানিতে তলিয়ে থাকায় নিরাপদ পানি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ রয়েছে এবং অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। অনেক কৃষকের বাড়ির পাশের সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। গোয়ালঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পশুগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

মাগুরায় কালভার্ট ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন 

মাগুরার শালিখা উপজেলার শালিখা-শতখালী সড়কের গোবরা এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

এলাকাবাসী জানান, কালভার্টটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক কিছুদিন আগে নির্মাণ করা হলেও বহু বছরের পুরনো কালভার্টটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। তারা বলেন, কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় বয়রা, গোবরা, কাদিরপাড়া খেয়াঘাট, নারিকেলবাড়িয়া বাজার, কাদিরপাড়া, হরিশপুর ও দেওয়াডাঙ্গাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা