বন্যা
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টানা ছয় দিনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া, প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে জেলার অন্তত ১৫টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায়, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়িসহ একাধিক উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গত মানুষ।
নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে ২ জন, বাঁশখালীতে ৩ জন, সীতাকুণ্ডে ১ জন, আনোয়ারায় ১ জন, রাউজানে ১ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১ জন, হাটহাজারীতে ১ জন এবং সাতকানিয়ায় ১ জন রয়েছেন।
বন্যার সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কৃষি খাতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬ হাজার ৫৯১ হেক্টর আউশ ধান, ৫৬৫ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ১৬৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি দ্রুত না নামলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। প্রাথমিক হিসাবে জেলার ৭ হাজার ৩৭৫টি পুকুর-দিঘি ও ৪৫টি চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ টন মাছ এবং ৪৮ লাখ ৪০ হাজার পোনা ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের আরেকটি সমন্বিত জরিপে ক্ষতির চিত্র আরও ভয়াবহ। সেখানে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও ৩২০টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মৎস্য খাতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি ৯১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসিফ জাহান সিকদার জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখনও প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ত্রাণসামগ্রী দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
এদিকে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তবে পানি না কমায় দুর্গত এলাকায় দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে কৃষি, মৎস্য এবং অবকাঠামো খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।