ধীরে ধীরে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি নেমে যাওয়ায় ফেনীর নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার মানুষের মধ্যে যে বন্যা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।
তবে ধীরে ধীরে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি নেমে যাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
তবে পানি কমলেও দুর্বল বেড়িবাঁধ নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আবারও ভারী বৃষ্টি হলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হতে পারে।
জেলা আবহাওয়া অফিস জানায়, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও দু-এক দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, শনিবার সকাল ১০টায় পরশুরাম পয়েন্টে মুহুরী নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৩৫ মিটার, যা রাত ১টার ১০ দশমিক ৯৯ মিটার থেকে কমেছে।
নদীটি বর্তমানে ১২ দশমিক ৫৫ মিটার বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফুলগাজীর বাসিন্দা সাহেদ হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে বাঁধ ভেঙে ঘরে পানি ঢোকার আতঙ্কে রাত কাটাতে হয়েছে। পানি কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় অনেকে জানান, প্রতিবছর বর্ষায় দুর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে গবাদিপশু, আমনের বীজতলা ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পানি কমলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রস্তুতি জোরদার করেছে।
জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা, মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ও শুকনো খাবার মজুতের কাজও চলছে।
পাউবোর (ফেনী) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, নদীর বাঁধ ও পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি মেরামতের জন্য বালুর বস্তাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নদীপাড়ের মানুষের নজর এখন আকাশ আর নদীর দিকেই।