ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
নিহত জিহাদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে জিহাদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কুট্রাপাড়ায় ব্র্যাক অফিস এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। সে স্থানীয় কুট্টাপাড়া মোড়ের আরজু গ্যারেজে মোটর মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ, হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জিহাদ শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাবাকে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু রাত হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ব্র্যাক অফিসের পূর্বপাশে পুলের টুক সংযোগস্থল এলাকায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দুর্বৃত্তরা তার বাম হাত ও বাম উরুতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা আজগর আলী বলেন, জিহাদ অনেক রাত হয়ে গেলেও সে বাড়ি না ফেরায় আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পাই। তার মোবাইল ফোনটিও ছিল না। আমার বিশ্বাস, ছিনতাইকারী অথবা পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ছুরিকাঘাতে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে