রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজারের মধ্যে রাস্তার একটি অংশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের সলিং মোড় থেকে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।
মূলত খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতায় সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বর্ষার শুরুতেই পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।
স্থানীয় অধিকাংশ বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করা হোক।
সড়কটি শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ও মাওনা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম, টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কাচিনা গ্রামের মানুষের মাওনা চৌরাস্তায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
তবে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় জলাশয়ে পরিণত হয়। বড় বড় খানাখন্দে জমে থাকা পানির নিচে গর্ত থাকায় প্রায়ই সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যান দুর্ঘটনায় পড়ে।
এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মীরা।
কপাটিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতাহার আলী বলেন, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে চলমান বর্ষায় দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ হবে। তাই আর আশ্বাস নয়, দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমান ইকবাল বলেন, এটি শুধু একটি সড়ক নয়, হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।
তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোগান্তি চললেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
অটোরিকশা চালক আব্দুল জব্বার মিয়া জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সপ্তাহে অন্তত দুবার গাড়ি মেরামত করতে হয়। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া চাইলে যাত্রীদের অসন্তোষের মুখেও পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আনন্দবাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ইউনুছ আলী বলেন, মাওনা থেকে কাঁচামাল আনতে আগে যেখানে আধাঘণ্টা লাগত, এখন ভাঙাচোরা সড়কের কারণে অতিরিক্ত প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও।
মাওনা পিয়ার আলী কলেজের শিক্ষার্থী রাইসা, সারা, আরাফ ও আদনান বলেন, প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটে। পোশাক কাদা-পানিতে নষ্ট হওয়ায় অনেক সময় কলেজে যাওয়া সম্ভব হয় না।
তাদের অভিযোগ, মাঝে মাঝে ইট ফেলে দায়সারা মেরামত করা হলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
শৈলাট গাজীপুর বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সড়কটির কারণে রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ সব ক্ষেত্রেই চরম সমস্যা হচ্ছে।
এ কারণে চার কিলোমিটার অংশ স্থায়ীভাবে ঢালাই করে নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সরকারি রাজস্ব খাতের জিওবি মেইন্টেন্যান্স তহবিল থেকে সীমিত বাজেট পাওয়া যায়।
জুলাই মাসে বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।