জুলাই গণঅভ্যুত্থান
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এক পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথ পুনর্বাসনের পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এক পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই নেতা সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কার, সংসদে বিরোধী মত প্রকাশ এবং রাজনীতিতে ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়েও বক্তব্য দেন।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “জুলাইয়ের আহত ও শহিদদের পুনর্বাসন না করে সরকার তাদের নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তাদের ব্যবহার করছেন।”
অন্তত দুইবার প্রকাশ্যে শহিদ পরিবারের সদস্যদের আমাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে দাবি করেন এই নেতা।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের আহতদের সংসদে নিয়ে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে আহতদের দিয়ে বলা হয়েছে, হাসনাত ও সারজিস নাকি কয়েকশ কোটি টাকা কামিয়েছেন।
“অথচ সেখানে আহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অধিকার, চিকিৎসা কিংবা পুনর্বাসনের দাবি নিয়ে কথা বলেননি; তাদের যা শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সেটাই বলেছেন।”
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া-সারা দেশে আমাদের যেতে হচ্ছে। অতীত প্রজন্ম তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে বলেই আজ তরুণদের রাজপথে নামতে হয়েছে।”
এনসিপি নেতা বলেন, “আমরা মায়ের কোল থেকে নেমেছি, আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র সংস্কার করবই, না হলে শহিদ ওসমান হাদীর মতো শহিদের কাতারে শামিল হব।”
“অতীত ও বর্তমানের রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণেই আমাদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে হয়েছে”, দাবি হাসনাত আবদুল্লাহর।
রাজনীতিতে ব্যবসায়িক প্রভাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমাদের রাজনীতিকে দুর্বৃত্ত ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
“পরে দ্রব্যমূল্য বাড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। তখন সংসদে শুধু প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাই শোনা যায়।”
সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যখন সংসদে কথা বলতে উঠি, তখন স্পিকার বলেন, ‘এটি শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটি জাতীয় সংসদ।’ কিন্তু এতে আমাদের কণ্ঠ থেমে থাকবে না।”
“সংসদে যদি আমাদের কথা বলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা সংসদের বাইরেও জনগণের কাছে আমাদের কথা পৌঁছে দেব”, বলেন তিনি।
তরুণ এই নেতার দাবি, “আমরা সংসদে দুই মিনিট কথা বললেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ৪৫ মিনিট সময় লাগে জবাব দিতে।
“আর আমরা যদি ৪৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ পাইতাম, তাহলে তার জবাব দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি পুরো অধিবেশন লেগে যাবে।”
পথসভার আগে হাসনাত আবদুল্লাহ রায়পুর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির সদস্য সচিব আবু বাকের মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।