সঞ্জয় সূত্রধর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
শিবালয়ের পাটুরিয়ায় বিআইডব্লিউটিএর নৌ-বন্দর এলাকা এবং সড়ক ও জনপথের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে বালুর ব্যবসা করলেও বারবার নোটিস করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না। লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধ বালুর ব্যবসা করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন বিআইডবিউটিএর কর্মকর্তারা।
বিআইডবিউটিএর অফিস সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বলগেট দিয়ে বালু এনে ফেরি ও লঞ্চ ঘাট এলাকার নদীর তীরে রেখে ড্রেজার দিয়ে পাটুরিয়া নৌ-বন্দর এলাকায় স্তূপ করে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। এ বালু ভেকু দিয়ে কেটে ট্রাকে করে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু বিক্রি করে আসছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়ায় এক নম্বর ফেরি ও লঞ্চ ঘাটের কয়েক গজের মধ্যে রেখে দিনরাত এ বালু কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। বছরের পর বছর নদীর ও বিআইডবিউটিএর বন্দর এলাকা এবং পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের সাথে বালু স্তূপ করে ভেকু দিয়ে বালু কেটে ট্রাকে করে বিক্রি করায় স্থানীয় এলাকাবাসীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের পাশে বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করায় প্রতিদিন ওখানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এক নম্বর ফেরি ঘাট ও লঞ্চ ঘাট এলাকা ভাঙনের কারণে ওই ঘাট রক্ষা করার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যায় করতে হয়। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএর একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে গত কয়েক দিন ধরে নদীর তীর থেকে বালু কেটে বিক্রি করা বন্ধ করলেও বন্দর এলাকায় অবৈধভাবে দখল করে নৌকা যোগে বালু এনে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে পাটুরিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশন বিআইডব্লিউটিএর পাটরিয়া নৌ-বন্দর এলাকা ও সড়ক ও জনপথের জায়গার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে দখল করে নৌকা যোগে বালু এনে স্তূপ করে রেখে ট্রাকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন জানান, আলমঙ্গীর হোসেন, আব্দুল রাজ্জাক, সোহান ও সায়েদুর রহমানসহ ৮-১০ প্রভাবশালী বালু স্তূপ করে বিক্রি করছেন। পাটুরিয়া বিআইডব্লিউটিএর বন্দর এলাকা ও সড়ক ও জনপথের জায়গায় বালু ব্যবসায়ী সয়েদুর রহমান বলেন, তার নিজস্ব জমিতে তিনি বালুর ব্যবসা করছেন।
বন্দর এলাকায় বালু ব্যবসায়ী আব্দুল রাজ্জাক বলেন, জমির মালিকের কাছ থেকে জমি বন্ধক নিয়ে বালুর ব্যবসা করছেন। বালু ব্যবসায়ী আলমঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা অনেককে ম্যানেজ করে এ বালুর ব্যবসা করছি। এ কারণে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
আরিচা অফিসের বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিএর) বন্দর কর্মকর্তা সুব্রত রায় বলেন, বিআইডবিউটিএর বন্দর এলাকায় বালুর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত প্রায় এক মাস আগে প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েক বার নোটিস করা হয়েছে। কিন্ত কোনো লাভ হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এক প্রধান শিক্ষকও এ বালুর ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন।
শিবালয় থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়ক অবৈধভাবে দখল করে বালুর বন্ধের জন্য পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার বলেন, বিআউডবিউটিএর বন্দর এলাকা এবং পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের সড়ক ও জনপথের জায়গায় অবৈধ দখল করে বালু বিক্রি বন্ধের জন্য দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।