কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার শিকিরবাজার স্কাউট ভবন থেকে পূর্ব চিত্রাপাড়া সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের বৃষ্টির পর সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা আমলে না নিয়ে নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
অভিযোগ রয়েছে, কার্পেটিংয়ের তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে হাতের স্পর্শে পিচ উঠে যেতে শুরু করে। স্থানীয়রা সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করলে তা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস নেমেছে। কোথাও কার্পেটিং ভেঙে উঠে গেছে, কোথাও ইট সরে গেছে। রাস্তার দুই পাশের শোল্ডারে দেওয়া মাটির বড় অংশ বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে গেছে। সড়কের পাশের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, শুরু থেকেই এই সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করলে উল্টো তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমরা উপজেলা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেখানে অনিয়মের তদন্ত হওয়ার কথা, সেখানে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা এই মামলার প্রত্যাহার, কাজের উচ্চতর তদন্ত এবং বুয়েট বা কুয়েটের মাধ্যমে নির্মাণসামগ্রীর ল্যাব টেস্টের দাবি জানাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী রাস্তার দুই পাশে প্রায় তিন ফুট প্রশস্ত মাটির শোল্ডার নির্মাণের কথা থাকলেও অধিকাংশ স্থানে তা করা হয়নি। এ ছাড়া এজিংয়ের কাজে পুরনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ও ট্যাক কোট যথাযথভাবে প্রয়োগ না করায় এবং বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ে মান বজায় না রাখায় অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে। তারা নতুন করে সড়কটির কার্পেটিং, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা ইউএনও সাগুফতা হক বলেন, সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য এলজিইডিকে বলা হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমেও এসেছে। উপজেলা প্রকৌশলী বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তিনি যোগদান করলে তদন্তের অগ্রগতি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।