রংপুর অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩০ মিনিট আগে
রংপুরে এসএসসি ১৯৮৬ ব্যাচের বন্ধুদের মিলনমেলা ও ঈদ পুনর্মিলনীতে আসা অতিথিরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রংপুরে এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশের উদ্যোগে দিনব্যাপী ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নগরীর চিকলী ওয়াটারপার্কে শুক্রবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের আট জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তিন শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
দীর্ঘদিন পর এক ছাদের নিচে মিলিত হয়ে বিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিচারণ, আড্ডা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নানা আয়োজনে দিনটি উদ্যাপন করেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাজু। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জীবা আমিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাহিদ আক্তার, কেন্দ্রীয় নেতা ও সাংবাদিক ফসিহ উদ্দীন মাহতাব এবং রংপুর বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহমুদ এলাহী বিপ্লব।
বক্তারা বলেন, ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যে পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে এমন মিলনমেলা শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, এটি পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিদ্যালয়জীবনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী করতে এ ধরনের আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বহু বছর পর একে অপরের সঙ্গে দেখা করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ শোনান স্কুলজীবনের মজার ঘটনা, কেউবা স্মরণ করেন শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর কথা। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নিয়ে গান, আবৃত্তি ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। হাসি-আনন্দ আর স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সময়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও বন্ধুত্বের সম্পর্ক কখনো পুরোনো হয় না। এমন আয়োজন তাঁদের আবারও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতেও একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
আয়োজকেরা জানান, এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য শুধু পুনর্মিলনী আয়োজন নয়; বরং সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং আজীবনের বন্ধুত্বের বন্ধন অটুট রাখা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ভবিষ্যতেও নিয়মিত পুনর্মিলনী, সামাজিক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে মধ্যাহ্নভোজ, সৌজন্য বিনিময়, দলীয় ছবি তোলা, র্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাণবন্ত পরিবেশে আয়োজিত এ ঈদ পুনর্মিলনী অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মিলনোৎসব।