শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
প্রতীকী ছবি
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশু সন্তানকে বিষ খাওয়ানোর পর মা নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি গ্রামের বিউটি আক্তাররে বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ তিনজন হলেন নেত্রকোনা জেলা সদরের মোবারক হোসেনের স্ত্রী মণি আক্তার (৩০), ছেলে আরাফাত (৪) এবং মেয়ে মাইশা (২)। স্থানীয়দের সহগযোগীতায় মোবারক হোসেন তাদেরকে উদ্ধার করে শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মণি আক্তারকে ওয়াশ করে এবং দুই শিশুকে এন্টিবায়োটিক দিয়েছে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাধীন রাখে।
গৃহকর্তা মোবারক হোসেন জানান, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি টেপিরবাড়ি গ্রামের বিউটি আক্তারের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় স্মার্ট গার্মেন্টস পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে মেঝেতে গড়াগড়ি করতে দেখেন। এসময় দুই সন্তানের মুখ থেকে ফেনা বের হতে দেখা যায় এবং কীটনাশকের গন্ধ পাই। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগীতায় স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে নিয়ে শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মা ও দুই শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভাড়া বাড়ির মালিক বিউটি আক্তার বলেন, গেলো উদের দুইদিন আগে তারা আমার বাসায় উঠে। পরে বাড়ীতে চলে যায় এবং ঈদের এক সপ্তাহ পর আসে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝগড়া ছিল না। তবে শিশুদের মা মণি আক্তার একেক সময় একক ধরনের কথা বলে। একবার বলে স্বামীর সাথে ঝগড়া আবার বলে তার বাবার (শিশুদের নানা বাড়ীর) লোকদের সাথে ঝগড়ার জন্য বিষপান করেছে। তবে শুক্রবার সকাল থেকে স্বামীর বাড়ীর লোকজনের সাথে ভালো ব্যবহার করে না এবং বাবার বাড়ীর লোকজনের সাথে সুন্দর ব্যবহার করে। সে পরিপূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না আসলে কী বিরোধের জন্য সন্তদানদেরকে বিসপান করিয়ে তিনি নিজেও বিষপানে আত্নহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন।
শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুদেরকে শারিরীক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অক্সিজেনসহ অন্যান্য চিকিৎসা দিয়ে সাথে সাথে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মা’কে ওয়াশ করানোসহ সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। হয়তোবা স্বজনেরা রোগীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় জানাতে পারেনি। থানায় অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।