হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
টানা ভারি বৃষ্টিপাতে হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কয়েক দিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া (কালিগঞ্জ) এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
আকস্মিক বন্যায় অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে খোয়াই নদীর বাঁধে কিংবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে দূরবর্তী আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। এতে পুরো এলাকায় মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে লস্করপুর ইউনিয়নের চরহামুয়া (কালিগঞ্জ) এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধের একটি অংশ হঠাৎ ভেঙ্গে যায়। এরপর প্রবল স্রোতে পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। মুহূর্তের মধ্যেই চরহামুয়া, লস্করপুর, বনগাঁও, বৈদ্যার বাজারসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। অনেক বসতঘরে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি ওঠায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাঁধের ভাঙনস্থলের আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার কিংবা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে সামান্য চাপেই বাঁধটি ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে ভাঙনস্থল মেরামত, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ এড়াতে খোয়াই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কার এবং অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত খোয়াই নদীর ২টি স্থান ভেঙেছে। আরও কয়েকটি স্থান ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে বস্তা দিয়ে মাটি ফেলে সংস্কার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, উজান এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ২২৫ সেন্টিমিটার এবং আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করাঙ্গী, সুতাং ও সোনাই নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাউল ও ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপবরাদ্দ করা হয়েছে।