× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

একঘন্টার পথ যেতে লাগে আড়াইঘন্টা

অরিত্র কুণ্ডু, পশ্চিমাঞ্চল

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। ফাইল ছবি

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। ফাইল ছবি

ঝিনাইদহ থেকে যশোর যেতে সাধারণত সময় লাগে মাত্র একঘন্টা। তবে এখন সেই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াইঘন্টা। বড় বড় খানাখন্দ ও চলমান উন্নয়নকাজের জন্য সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।

বিশেষ করে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ বাইপাস এলাকা থেকে যশোরের পালবাড়ি মোড় পর্যন্ত অন্তত ৪৫ কিলোমিটার সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই অফিসগামী থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও রোগী সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঝিনাইদহ শহর বাইপাস থেকে যশোরের দিকে বের হলেই শুরু হয় দুঃসহ যাত্রা। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে বছরের পর বছর ধরে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ করায় মহাসড়কের অনেক অংশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে একঘন্টায় পৌঁছানো যেতো এখন সেখানে যেতে সময় লেগে যাচ্ছে আড়াইঘন্টা। সড়কের উন্নয়ন কাজ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত মোট কাজের মাত্র ৮ শতাংশ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, ২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় উইকেয়ার ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে সাড়ে ৪৭ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার ছয় লেন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটির (এন-৭) অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হয়। এর মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ একবার বাড়িয়ে দেয় সরকার। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সার্বিক অগ্রগতির চিত্র দেখে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ঝিনাইদহ সদরের চটুলিয়া মোড় থেকে কালীগঞ্জের কেয়াবাগান পর্যন্ত সড়কের পুরো অংশজুড়ে খানাখন্দে ভরা। বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থান ভেঙে গেছে। বিষয়খালী, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ গেট ও দুলালমুন্দিয়া এলাকার সড়কে ইটের সলিং বসানো হয়েছে। সড়কের অধিকাংশ এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবহন। আবার কয়েক জায়গায় নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় সেখানে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের।

স্থানীয়রা বলছেন, এই দুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি পড়ছেন রোগীরা। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ও খুলনায় পাঠানো হয়। তবে সড়কে সময় বেশি লাগায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কটির উন্নয়ন প্রকল্প তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম লটে রয়েছে ঝিনাইদহ শহরের বাস টার্মিনাল থেকে কালীগঞ্জ মাহাতাব উদ্দিন কলেজ পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৯ কিলোমিটার।

দ্বিতীয় লটে মাহাতাব উদ্দিন কলেজ থেকে যশোরের মুরাদগড় পর্যন্ত ১৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার। মুরাদগড় থেকে যশোরের চাঁচড়া পর্যন্ত তৃতীয় লটে রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম লটে ২টি ভেহিকুলার ওভারপাস, ২২টি কালভার্র্ট ও ২টি সেতু রয়েছে। ইতোমধ্যে দুইটি ওভারপাস, একটি সেতু ও আটটি কালভার্টের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে।

ওই সড়কে চলাচলকারী গড়াই পরিবহনের চালক আব্দুল লতিফ বলেন,‘যাত্রীদের সবসময় চাপ থাকে।তবে রাস্তার অবস্থা এমন খারাপ যে, একটু গতি বাড়ালেই ঝুঁকিতে পড়তে হয়। রাস্তার অবস্থা খারাপের জন্য অধিকাংশ সময় এক ঘন্টার পথ যেতে দুই থেকে আড়াইঘন্টা লেগে যায়।’

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক শহিদুল ইসলাম বলেন ‘সড়কের এ অবস্থার কারণে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। অসুস্থ রোগী নিয়ে আমাদের এ সড়ক দিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।’

সওজ ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ওই মহাসড়কের ছয় লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলছে। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে মহাসড়কের বেশকিছু অংশে সংস্কার করা হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন তাঁরা কবে নাগাদ কাজ শেষ করতে পারবে।

তবে এসব বিষয়ে নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের দায়িত্বরতরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা