অনাথ মন্ডল, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী মই বেয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সরকারি অর্থে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা সেতু। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না।
প্রতিদিন বাঁশের তৈরি অস্থায়ী মই বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষকে।
এমন চিত্র সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের দাউদ গাজীর বাড়ির সামনে সিমানার খালের ওপর নির্মিত সেতুর।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অর্থায়নে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ এন্টারপ্রাইজ।
নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে বুধবার গিয়ে দেখা যায়, রমজাননগর ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সংযোগস্থলে খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। তবে দুই প্রান্তে রাস্তা না থাকায় স্থানীয়রা নিজেরাই বাঁশের মই তৈরি করে সেতুর সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
দেখা যায়, সেই মই ব্যবহার করেই প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন। বর্ষাকালে মই ভিজে পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে প্রতিবেদকের কথা হয় বেশ কয়েকজন স্থানীয়দের সঙ্গে।
তাদের ভাষ্য, প্বার্শেখালী, মিরগাং, কালিঞ্চী, ঠাকুরঘেরী ও টেংরাখালী গ্রামের অন্তত পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন।
শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা উন্নয়নে ব্যয় করছে। কিন্তু রাস্তা ছাড়া সেতু নির্মাণ করে কোনো লাভ হয়নি। আমাদের এখনও বাঁশের মই বেয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
গৃহিণী রহিমা খাতুন বলেন, “বৃদ্ধ মানুষ বা গর্ভবতী নারীকে এই সেতু দিয়ে পার করা খুবই কষ্টকর। অসুস্থ রোগী নিয়ে গেলে আরও বিপদে পড়তে হয়।”
স্থানীয় শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন জানায়, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে মই খুব পিচ্ছিল হয়ে যায়। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় সংযোগ সড়কের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রমজাননগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ লাল্টু বলেন, ইউএনও ও পিআইওকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা সরেজমিনে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম দাবি করেন, দুই ইউনিয়নের সীমানায় সেতু নির্মাণের সময় ঠিকাদার সেখান থেকে মাটি তুলে বিক্রি করেছেন। এখন সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি পাওয়া যাচ্ছে না।
আবার দুই পাশ থেকে গভীর করে মাটি কাটলে সংযোগ সড়কই বিলীন হয়ে যাওয়ারও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্যামনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। একটু বৃষ্টি কমলেই উনি কাজ শুরু করে দেবে।