মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবা ফটো
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত জেলার মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এতে গত কয়েকদিনে অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুরের বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বন্যায় পুরোপুরি তলিয়ে গেছে আউশ ফসলের মাঠ।
জানা যায়, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে
বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মকাবিল এলাকায় ধলাই নদীর ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়
বাসিন্দা অতনু সিংহ, জয়দ্বীপ সূত্রধর, সাকিব মিয়া, জাকির হোসেন বলেন, ধলাই নদীর মোকাবিলের
এই অংশটুকু অনেক আগে থেকেই ভাঙা ছিল। এলাকাবাসী বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন-নিবেদন
করলেও কোনা কাজ হয়নি। বুধবার রাত ১০ টার দিকে হঠাৎ করে ধলাই নদীর ওই বাঁধ ভেঙে
যায়। প্রায় ৩০০ ফুটের ভাঙনে কয়েকটি ইউনিয়নের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষ কষ্টে
আছে, অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। আউশ ধান ও বিভিন্ন ফসল তলিয়ে
গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে ঠিক মতো কাজ করলে আজ এত ক্ষতি হতো না।
দুর্গত এলাকাগুলোতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা
ও উপজেলা প্রশাসনে পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে আমরা শুকনো খাবার দিয়েছি।
এছাড়া যতটুকু সম্ভব উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো হবে।’
এদিকে অব্যাহত অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে
জেলার নদনদীগুলোর পানি বাড়ছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুশিয়ারা ও জুড়ী নদের পানি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়,
মনু নদীর রেলওয়ে ব্রিজ এলাকায় ০ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার, চাঁদনীঘাট এলাকায় ০ দশমিক ৯৬
সেন্টিমিটার, ধলাই নদীর পানি ০ দশমিক ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী
প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিএসএফ-এর বাধায় ধলাই
নদীর মকাবিলের এই অংশটুকুতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি।