বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৪ জেলেসহ মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যায়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৪ জেলেসহ মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যায়।
এরপর দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর ১২ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে।
গভীর সাগরে মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন কালাম (৫৫) ও শহীদ (৫৭)। তারা পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে মাছ ধরতে যাওয়া দুলাল মাঝির ট্রলারের জেলে ছিলেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকালে গভীর সাগর থেকে মহিপুর মৎস্য বন্দরের উদ্দেশে ফিরছিল ট্রলারটি। এ সময় হঠাৎ সাগরে বৈরি আবহাওয়া তৈরি হয়। বাতাসের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। একপর্যায়ে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, ট্রলার ডুবে যাওয়ার সময় কালাম ও শহীদ কেবিনের ভেতরে থাকায় তারা মুহূর্তের মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে যান। বাকি ১২ জেলে কোনো রকমে ট্রলার থেকে বের হয়ে উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকেন।
ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার কথাও বলেন তারা।
তারা বলেন, ভোরের দিকে একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেদের নজরে পড়েন তারা। এরপর ট্রলারটি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে দুলাল মাঝি (৪৫), কামাল (৩৫), মনির (৩৮), ইমরান (২৫), জামাল (৩৫) ও শামীম (৩২)-এর নাম জানা গেছে। বাকিদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
তাদের সবার বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলার নিদ্রা সকিনা এলাকায় বলেও জানা গেছে।
এদিকে নিখোঁজ কালাম ও শহীদের সন্ধানে স্থানীয় জেলেদের কয়েকটি দল সাগরে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চলছে উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দর এলাকা।
দ্রুত উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।
মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, ট্রলারডুবি বা নিখোঁজের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড অভিযান পরিচালনা করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈরি আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।