মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের পর এবার ইটনা উপজেলার হাওরেও চলন্ত নৌকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের পর এবার ইটনা উপজেলার হাওরেও চলন্ত নৌকায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
দেশীয় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে নৌকায় থাকা ইঞ্জিনের
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭৪ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেয়ারপুর ব্রিজসংলগ্ন বগাডুবি
খাল এলাকায় বুধবার (০৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী জানান, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের
বাসিন্দা সদরঞ্জন দাস হাঁসের বাচ্চা কিনতে নৌকাযোগে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা
এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বগাডুবি খাল এলাকায় পৌঁছালে মাথায় হেলমেট পরা ৭ জন দুর্বৃত্ত
দেশীয় অস্ত্রের মুখে নৌকার গতিরোধ করে। পরে তারা নৌকায় থাকা ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি
নিয়ে যায়।
জানা যায়, ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দা ফুল মিয়া নদীতে পাহারার দায়িত্বে
ছিলেন। তিনি বগাডুবি খালের দিক থেকে একটি নৌকা থেকে চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে
যান। সেখানে গিয়ে দুই ব্যক্তিকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের উদ্ধার করে বর্শিকুড়া
বাজারে নিয়ে আসেন।
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয়রা সাতটি নৌকা নিয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করলে
ডাকাতরা এলংজুরী ইউনিয়নের দিকে রাতের অন্ধকারে চলে যায়।
এ ছাড়া গত ৭ জুন রাতে মিঠামইন-করিমগঞ্জ সীমান্তবর্তী হাসানপুর ব্রিজ
এলাকায় প্রায় ৪০ জন পর্যটক বহনকারী একটি ট্রলারেও সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায়
যাত্রীদের মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল ডাকাতি
করা হয়েছে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের
ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং মিঠামইন থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঢাকার সাভার,
কামরাঙ্গীরচর ও মিঠামইনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার
করা হয়। হাওরাঞ্চলে ধারাবাহিক নৌ-ডাকাতির ঘটনায় নৌপথ ব্যবহারকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নৌপথে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে
নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ডাকাতচক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত
করা হোক।
এ বিষয়ে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান
বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি কোন থানার আওতাভুক্ত, সেটি যাচাই
করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।