কাজল বরণ দাস, পটুয়াখালী
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
পটুয়াখালীর সোহাগের সাথে বন্য বাজপাখির বন্ধুত্ব। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রকৃতির এক নিভৃত সবুজ পল্লী পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর গ্রাম। এই গ্রামেরই এক গাড়িচালক সোহাগ খান। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে সাধারণত ‘ভয়ংকর শিকারি’ হিসেবে পরিচিত বন্য এক বাজপাখি এখন সোহাগের ভালোবাসায় পোষ মেনেছে। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ওপর ভর করে পাখিটি এখন প্রতিদিন সোহাগের হাত থেকেই খাবার খাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে বাড়ির পাশের একটি ভিটায় তালগাছের নিচে আহত ও দুর্বল অবস্থায় পাখিটিকে উদ্ধার করেন সোহাগ। এরপর তিনি সেটিকে বাড়িতে এনে সযতনে সেবা-শুশ্রূষা ও লালন-পালন শুরু করেন। ধীরে ধীরে পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠলে একপর্যায়ে সোহাগ তাকে মুক্ত আকাশে উড়িয়ে দেন। তবে মুক্ত আকাশে ডানা মেলার সুযোগ পেলেও পাখিটি সোহাগের মায়া ছেড়ে কোথাও যায়নি। সোহাগ এখন নাম ধরে ডাক দিলেই পাখিটি যেখানেই থাকুক না কেন, সাড়া দিয়ে উড়ে চলে আসে তার কাছে। সোহাগের হাতে বসেই দিন পার করে আর তার খাইয়ে দেওয়া খাবার খায়।
বন্য বাজপাখি আর গাড়িচালক সোহাগের এমন বিরল বন্ধুত্ব দেখে মুগ্ধ এলাকাবাসী। পাখিটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন নানা শ্রেণির উৎসুক মানুষ। কায়সার, মমতা, মাহিন, সুবিন্দ ও খায়রুন নাহারের মতো অনেক দর্শনার্থী বলেন, ‘যেখানে মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও বিশ্বাস কমে যাচ্ছে, সেখানে একটি বন্য পাখির মানুষের প্রতি এমন নির্ভরতা সত্যিই এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা।’
প্রাণী অধিকার সংগঠন অ্যানিমেল লাভারসের সংগঠক মো. মুসা বলেন, বাজপাখিটির খবর তারা জেনেছেন। পাখিটির একটি নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
উপকূলীয় বন বিভাগের পটুয়াখালী সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা অমিতাভ দাস বলেন, “বন্য প্রাণী আইনে বন্য পাখি পোষা বা লোকালয়ে আটকে রাখা নিষিদ্ধ। তবে এই বাজপাখিটির স্বভাবজাত আচরণের কথা শুনে ভালো লাগছে। বন বিভাগ পাখিটির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেবে। মানুষ ও বাজপাখির এই ব্যতিক্রমী সম্পর্ক এখন এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে”।