ভারি বৃষ্টিতে ঘরে জলাবদ্ধতা
মায়ের পাশ থেকে ঘরের মধ্যে জমে থাকা পানিতে পড়ে মারা যাওয়া শিশু আয়াশ। ছবি: ফেসবুক থেকে
টানা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে ময়মনসিংহে বাসার ভেতরে জমে থাকা পানিতে ডুবে আজনান আমিন তালুকদার আয়াশ (৮ মাস) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নগরীর ব্রহ্মপল্লী এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভারি বর্ষণে ঘরের মেঝেতে পানি জমে পানিতে খাট থেকে গড়িয়ে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহত আয়াশ রেজুয়ানুল আমিন আবির ও বন্যা আক্তার দম্পতির ছেলে। আবির একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আশরাফুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সময় শিশুটির মা নগরের ব্রহ্মপল্লী এলাকায় তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বাসার ভেতরে পানি ঢুকে মেঝেতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বুধবার সকালে খেলার পর আয়াশকে নিয়ে তার মা খাটে ঘুমিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে সবার অজান্তে শিশুটি খাট থেকে গড়িয়ে নিচে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটির নানি এসে তাকে পানিতে পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত আয়াশকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির বাবা রেজুয়ানুল আমিন আবির বলেন, “প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ঘরের ভেতরে পানি জমে ছিল। আমরা বুঝতেই পারিনি ও কখন খাট থেকে নিচে পড়ে গেছে। দেখতে পেয়েই হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু আমার সন্তানকে আর বাঁচানো গেল না”।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুজাউদ্দিন বলেন, “সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান”।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আশরাফুল করিম বলেন, “টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে অসাবধানতাবশত শিশুটি বাসার ভেতরে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক”।
এদিকে টানা ভারী বর্ষণে বুধবার ময়মনসিংহ নগরীর অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিট থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৯ ঘণ্টায় জেলায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি চলতি বছরে ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
ভারী বৃষ্টিতে নগরের সানকিপাড়া, আকুয়া, ব্রহ্মপল্লী, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড়, কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসে। এতে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।