সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ি এলাকায় বুধবার পাহাড়ধসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণে পৃথক দুইটি পাহাড়ধসের ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নগরীর চশমা হিলের মেয়র গলিতে এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বুধবার এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন নগরীর চশমা হিলের মেয়র গলি এলাকার সামিয়া ইসলাম (১৩) এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ি এলাকার মঈন উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম।
বায়েজিদ বোস্তামী ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পাহাড়ধসে মাটির নিচে চাপা পড়েছিল শিশুটি। পড়ে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের বাগানবাড়ি এলাকায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে বাগানবাড়ি এলাকার ৬ নম্বর সমাজে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে আশরাফুল ইসলাম ওরফে তানভীর নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশু মাটির নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তারও মাটির নিচে চাপা পড়েন। তবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
এ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, টানা চার দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও পাহাড়ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তার মা। নিহত শিশুর মায়ের চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান ইউএনও।
টানা তিন দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম কার্যত পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর নিচু এলাকাগুলোর সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানি উঠেছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলায়।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার। এর আগের দিন, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল, যেদিন অতি ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চট্টগ্রামে মারা গিয়েছিলেন ১২৭ জন। তারও আগে- ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।