× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রামে সবখানেই থইথই পানি

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৭ ঘণ্টা আগে

পানিতে থইথই  চট্টগ্রাম নগরী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পানিতে থইথই চট্টগ্রাম নগরী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

টানা তিন দিনের রেকর্ড বৃষ্টিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম কার্যত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নগরীর নিচু এলাকাগুলোর সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

পানি উঠেছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলায়। বহু বাসাবাড়িতে ডুবে গেছে রান্নাঘরের চুলাও, ফলে নিত্যদিনের রান্না পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে অনেক পরিবারে।

শুধু নগর এলাকাই নয়, হাটহাজারী, রাউজান, সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালীসহ প্রায় সব উপজেলাতেই দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। সন্দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগও একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চার দশকের রেকর্ড বৃষ্টি

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের হিসাবে, বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ২৩৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার; সকাল ৯টা পর্যন্ত হিসাবে ছিল ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার। এর আগের দিন, মঙ্গলবার সারাদিনের বৃষ্টিপাতের গ্রাফ ছিল রীতিমতো ভয়াবহ—সকাল ৬টায় ২৮২ দশমিক ৮, সকাল ৯টায় ৩৩০ দশমিক ৮, দুপুর ১২টায় ৩৮৬ দশমিক ৮, বিকেল ৩টায় ৪১২ দশমিক ৩, সন্ধ্যা ৬টায় ৩৯৪ দশমিক ৩ এবং রাত ৯টায় ৩৬৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বিকেল ৩টার ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন ২৪ ঘণ্টায় ৪০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল, যেদিন অতি ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চট্টগ্রামে মারা গিয়েছিলেন ১২৭ জন। সেই তুলনায় এবারের দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম— একজন। তারও আগে, ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। সবমিলিয়ে মঙ্গলবারের (৭ জুলাই) বৃষ্টি চার দশকের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি

আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজীর হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। কোথাও কোথাও পানি এতটাই বেড়েছে যে গণপরিবহন ও রিকশা চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে অফিসগামী মানুষদের জুতা হাতে নিয়ে, কাপড় গুটিয়ে নোংরা পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।

বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ার মিলিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বহু দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে মালামালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাসিন্দাদের ভোগান্তির চিত্র

চান্দগাঁওয়ের বাহির সিগনাল এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, টানা বৃষ্টিতে তার বাসার নিচতলায় কোমরসমান পানি ঢুকে পড়ায় জরুরি জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে তাকে।

একই এলাকার বাসিন্দা নাদিয়া সুলতানা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই পানি ঢুকতে শুরু করে তাদের বাসায়, এমনকি রান্নাঘরের চুলাও ডুবে যাওয়ায় সেদিন রান্নাই হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পরিবার নিয়ে অন্য এলাকায় সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরীক্ষা স্থগিত

মঙ্গলবার রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে; ষোলশহরে আটকে পড়া কক্সবাজারগামী একটি ট্রেনের যাত্রাই বাতিল করে দিতে হয়েছে। কোথাও কোথাও মহাসড়কও তলিয়ে গেছে পানিতে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি আন্তর্জাতিক ও একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। এছাড়া দেয়ালধসে একজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবারের (৮ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

 কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেতের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের সতর্কতাও বহাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে পরিষ্কার থাকা ড্রেন দিয়েও পানি নামছে না। তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা