× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিনুল হক চৌধুরী

‘ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা স্থায়ী নিরসন হবে’

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ২০:৫০ পিএম

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬ ২০:৫৯ পিএম

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাচ্ছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও প্রকল্পের পরিচালক মো. মহসিনুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি জানাচ্ছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও প্রকল্পের পরিচালক মো. মহসিনুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রাম নগরের বহুল আলোচিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজড়া খালের কাজ ৬৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে প্রকল্প এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যেও নগরের অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা হয়নি। যেসব স্থানে পানি জমেছিল, সেগুলোও এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নেমে গেছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, রবিবার (০৫ জুলাই) থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যা ১৯৮৩ সালের পর থেকে গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রকল্পের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বিবেচনায় নকশা করা হলেও এবারের বৃষ্টিপাত ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে নগরের ১২১টি স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং পানি নামতে সময় লাগত ৩৫ থেকে ৩৬ ঘণ্টা। প্রকল্পের অগ্রগতির ফলে ২০২৪ সালে জলাবদ্ধতার স্থান কমে ৬১টিতে এবং ২০২৫ সালে ১৭টিতে নেমে এসেছে। বর্তমানে মাত্র চার থেকে পাঁচটি স্থানে সাময়িকভাবে পানি জমছে। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবর্তক মোড়ে খাল পরিষ্কারের পর সেখানে আর পানি জমেনি। তবে কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা ও মুরাদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সাময়িকভাবে দুই থেকে আড়াই ফুট পানি উঠেছিল। বৃষ্টি থামার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সেসব এলাকার পানি নেমে যায়। এটিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নয়, বরং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ‘ফ্ল্যাশ ওয়াটারহিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের উন্নয়ন, ১৬৩ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ১১৪টি ব্রিজ-কালভার্ট, ছয়টি রেগুলেটর, ২১টি সিল্ট ট্র্যাপ, নতুন খাল খনন, ড্রেন সম্প্রসারণ ও সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, বাকি পাঁচটি খালের কিছু ফিনিশিং কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। আর বর্ষা মৌসুমে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা হিজড়া খালের কাজ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় শুরু হবে। আগামী অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিটেইনিং ওয়াল, তিনটি ব্রিজ ও তিনটি সিল্ট ট্র্যাপ নির্মাণসহ প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, হিজড়া খালের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার থেকে বাড়িয়ে নয় মিটার এবং গভীরতা আড়াই মিটার থেকে চার থেকে ছয় মিটার করা হচ্ছে। এ জন্য ১২৭টি স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হলেও ইতোমধ্যে প্রায় ১২০টি অপসারণ করা হয়েছে। কাজ শেষ হলে হিজড়া খালসংলগ্ন এলাকাতেও জলাবদ্ধতা থাকবে না।

প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন বলেন, পুরোনো নগরের দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার, ভূমি অধিগ্রহণ, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বৈধ-অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন জটিল হলেও ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এক থেকে দুই বছর সেনাবাহিনী ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যৌথভাবে খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এ সময় চসিককে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা হবে। পরে পুরো দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অতিবৃষ্টির সময় নগরের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয় সদস্যের কুইক রিঅ্যাকশন টিম কাজ করছে। পাশাপাশি খাল পুনর্দখল ঠেকাতে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, সার্ভিস লেন তৈরি এবং খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর প্রতি খাল-ড্রেনে প্লাস্টিকসহ যেকোনো ধরনের বর্জ্য না ফেলার আহ্বানও জানান প্রকল্প পরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও নির্বাহী প্র্রকৌশলী আহম্মদ মইনুদ্দিনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা