ভারী বর্ষণে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার অন্তত চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধস, সড়ক ক্ষতি, গাছ উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এদিকে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আলিয়া সোলতানা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের স্রোতে ভেসে যায় শিশুটি। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম।
তিনি বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”।
স্থানীয়রা জানান, বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, রোগী, বাজারগামী মানুষসহ সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভারী বর্ষণে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকার অন্তত চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া বাইশারীসহ আরও চারটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের পাশাপাশি নাইক্ষ্যংছড়ি-সোনাইছড়ি সড়কের শৈলচূড়া এলাকায় সড়কের পাশ ধসে গাইড ওয়াল ভেঙে পড়ে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, সড়কের ক্ষতি হলেও অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করে জরুরি ভিত্তিতে গাইড ওয়াল পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে বড় গাছ উপড়ে পড়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি, কচ্ছপিয়া ও গর্জনিয়া এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ
ঘুমধুমের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, টানা বর্ষণে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুমব্রু খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সীমান্তসংলগ্ন অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বাংলাদেশের অংশে তুমব্রু বাজার, তুমব্রু গ্রাম, মধ্যমপাড়া ও পশ্চিমপাড়াসহ আশপাশের এলাকা পানির নিচে চলে যায়। তুমব্রু বাজারের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও প্রায় আট ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন ছিল।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর এলাকার আদর্শ গ্রামে সড়কের ওপর গাছ পড়ে এবং বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে কয়েক ঘণ্টা যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উপজেলার শত শত এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থী এবং মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান বলেন, “ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে”।