ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৩:২৫ পিএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১৩:২৬ পিএম
ফুলবাড়ী উপজেলায় স্বামীর শাবলের আঘাতে স্ত্রী নিহত হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও গ্রামবাসী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে স্বামী মানিক হোসেনের শাবলের (মাটি খোড়ার খন্তা) আঘাতে কুলসুম আক্তার মিমি (৩০) নামের এক গৃহবধূর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর পৌণে চারটার দিকে ফুলবাড়ী পৌরএলাকার স্বজনপুকুর (বুন্দিপাড়া) গ্রামে।
নিহত কুলসুম আক্তার মিমি (৩০) ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাশেমের মেয়ে এবং ঘাতক মানিক হোসেন পূর্ব গৌরীপাড়া গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মানিক হোসেন তার শ্বশুর বাড়ীতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন। তাদের তিন ছেলে রয়েছে। মানিক কোনো কাজ না করায় সংসারের অভাব অনটন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝাগড়া বিবাদ লেগে থাকতো।
এরই জের ধরে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর পৌণে ৪টার দিকে কুলসুম আক্তার তার স্বামী মানিক হোসেনকে অন্য ঘরে ঘুমানোর জন্য বলেন। কিন্তু মানিক হোসেন স্ত্রীর সঙ্গেই ঘুমাবেন বলে জোরাজোরি করেন। এ সময় কুলসুম আক্তার স্বামীকে পুনরায় ঘর থেকে অন্য ঘরে চলে যেতে বলেন। এতে স্বামী মানিক হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে শাবল (মাটি খোড়ার খন্দা) দিয়ে কুলসুম আক্তারের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথার পুরো অংশ থেতলে যায় এবং বুকের বাম পার্শ্বে শাবলের পিছনের অংশ ঢুকে দেয়। এতে কুলসুম আক্তারের মাথার মগজ বের হয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় ছেলেদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে ঘাতক মানিক হোসেনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার এবং মানিক হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূ কুলসুম আক্তার মিমি’র মা মেহেরুন নেছা বাদি হয়ে মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
নিহত কুলসুম আক্তারের বড়ছেলে আলা আমিন তার মায়ের হত্যার বিচার চেয়ে বলেন, আমাদের চোখের সামনে মাকে হত্যা করেছে বাবা। আমরা তার ফাঁসি চাই।
ফুলবাড়ী থানার ওসি আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্বামী মানিক হোসেনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত কুলসুম আক্তার মিমি’র মা মেহেরুন নেছা বাদী হয়ে মানিক হোসেনর বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।