রাতভর ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাতভর ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। নগরীর বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দেয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার। আর সকাল ৬টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৬০ মিলিমিটার।
সকাল ১০টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা আর পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকেই নগরীর চকবাজার, উত্তর আগ্রাবাদ, কর্মাস কলেজ রোড, হালিশহর, ইপিজেড, বন্দর, পাঠানটুলি, চান্দগাঁও, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়ে।
নগরের উত্তর আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, "ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।"
৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফাহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, "সকালে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। কবে যে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাব, জানি না।"
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, "নগরজুড়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলমান রয়েছে। কয়েকটি স্থানে পানি নিষ্কাশনে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে এলে দ্রুতই সড়ক থেকে পানি নেমে যাবে বলে আমরা আশা করছি।"
তিনি আরও বলেন, "পতেঙ্গা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজ করতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নেন। তারা তাদের জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বাধা দিচ্ছেন। এ কারণে ওই এলাকার জমে থাকা পানি সরতে কিছুটা সময় লাগছে। "
এদিকে অতি ভারি বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সর্তকতা জারির পর নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে বসতি স্থাপনকারীদের সরাতে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন। নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর ও শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলী ঘোণা, মতির্ঝণা টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল সংলগ্ন পাহাড়, ঢেবার পাড়, আমবাগান, দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজায় সেকান্দর কলোনি, ঠান্ডাছড়ি ও সন্দ্বীপ কলোনি এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশ শনিবার রাত থেকেই আটটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত রোববার রাত থেকে বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতে সরাসরি গিয়ে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
এদিকে চট্টগ্রামে এখনো কারো মৃত্যু না হলেও প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও কক্সবাজার শহরে অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের চারটি স্থানে এবং কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।