কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১১:৫২ এএম
আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬ ১১:৫৪ এএম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি গ্রামে দুধকুমার নদের ভয়াবহ ভাঙনে বিলীনের হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। প্রবা ফটো
কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। ভাঙনগুলো হলোÑ জেলার ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর তীরবর্তী অন্তত ৪২টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক।
একদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমিÑ অন্যদিকে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভাঙনের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী,
কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১ মিটার ৯১ সেন্টিমিটার
নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার
১ মিটার ৭৯ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে।
চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার
১ মিটার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি
পেলেও তা এখনো বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকার ৪২টি পয়েন্টে ভয়াবহ
নদীভাঙন শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড়
ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা,
চিলমারী উপজেলার কড়াই বরিশাল, নয়ারহাট, রাজারহাট উপজেলার রামহরি, রাজিবপুর উপজেলার
কোদালকাটি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া, সরকারপাড়া ও হলোখানা ইউনিয়নের
আরাজি পলাশবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন এলাকা।
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভেকেট ফারুক
হোসেন বলেন, দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে জিও ব্যাগ ফেলার আবেদন করেছি, কিন্তু
কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাত্র ১২ দিনের ভাঙনে গ্রামের ৪০টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে
নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন আমরা ভূমিহীন হয়ে পড়েছি।
অপরদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে- নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে
বন্যার পানিতে ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত
হয়েছে। এতে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদনদীর পানি আবারও আগামী দু'দিন বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া ভাঙন মোকাবিলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।